দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে শিববাড়িয়া নদী

পরিবেশ ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:৩৯ আপডেট: ০২:২৮

দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে শিববাড়িয়া নদী

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শিববাড়িয়া নদী।পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব ও দখল-দূষণে মরতে বসেছে এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি।
 
স্রোতের সাথে পলি এসে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায়, নাব্যতা কমে গেছে আশঙ্কাজনক ভাবে। এ কারণে নদীর দুপাড়ে চর পড়তে শুরু করেছে। এ সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে বরফকল, ডক ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা তৈরী করে ব্যবসা খুলে বসেছেন। ফলে নৌযান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
 
এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম সামুদ্রিক মৎস্য বিপনন কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুর মৎস্য আড়ৎ। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক মৎস্য আড়ৎ ও ৪৬ টি বরফ কল রয়েছে। এছাড়াও এ পেশাকে কেন্দ্র করে এখানে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের। প্রতিদিন মহিপুর-আলীপুর থেকে কয়েকশ' টন মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্ত নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় আগের মত মাছ নিয়ে বড় নৌকা আসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে যে ইলিশের চাহিদা রয়েছে তার অনেকটাই পূরণ হয়ে থাকে মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুর থেকে। প্রতি বছর এ খাত থেকে প্রচুর পরিমান রাজস্ব আয় হয়। যা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সেই শিববাড়িয়া নদীটি দখল ও দূষনের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এখন নাব্যতা সংকটের কারণে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে সমুদ্রগামী মাছ ধরা ট্রলারগুলো চলতে হয়। এর ফলে সময় মতো আহরিত মাছ বিক্রি করতে পারছেন না জেলেরা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীসহ জেলেরা।
 
স্থানীয় জেলে মমিন মাঝি বলেন, সাগরে আবহাওয়ার পূর্ব সর্তক সংকেত কিংবা সাগর উত্তাল হয়ে উঠলেই এই নদীতে নিরাপদ আশ্রয় নেয় জেলে নৌকগুলো। কিন্ত নাব্যতা কমে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পরতে হয়।
 
মহিপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল সালাম আকন জানান, এই নদীতে এক সময় নিয়মিত লঞ্চ ও কার্গো চলাচল করতো। কিন্ত নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সেটা এখন শুধুই স্মৃতি। জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং করে একে তার পূর্বরুপ ফিরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। যাতে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য তার স্বাভাবিকতা না হারায়।
 
লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, মহিপুর আলীপুর মৎস্য বন্দরের উপর নির্ভর করে হাজারও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নাব্যতার অভাবে এ মৎস্য বন্দরটি কার্যকারিতা হারালে তা এলাকার অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। বেকার হয়ে যাবে কয়েক হাজার মানুষ। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই নদীকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই নজর দেওয়া উচিত।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালীউজ্জামান জানান, এ নদী খননে আপাতত কোন কার্যক্রম নাই। তবে স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়ে আমরা উপর মহলে জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাবসীর আশংকা দূর করা সম্ভব হবে। 

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি