রূপসায় অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে কয়লা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:৪৪

রূপসায় অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে কয়লা
রূপসায় অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পোড়ানো ছবি

খুলনার রূপসা উপজেলায় আবারও চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে বানানো হচ্ছে কয়লা।  প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন উপকারী গাছ কেটে এখানে কাঠ সরবরাহ করা হয়।  এতে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।  হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।  পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর চালানো হচ্ছে এ ব্যবসা।

এছাড়া চুল্লির বিষাক্ত ধোয়ায় শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বৃক্ষ শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে, জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলার আইচগাতী, নৈহাটী ও শ্রীলফতলা ইউনিয়নের একাধিক স্থানে গড়ে উঠেছে চুল্লি।  আইচগাতী ইউনিয়নের শোলপুর এলাকায় কয়লা ব্যবসায়ী মু. আজাদের ৪টি চুল্লি রয়েছে।  একই এলাকায় এ বছর গড়ে উঠেছে মু. রনির ৪টি চুল্লি।  বর্তমানে তার চুল্লি তৈরির কাজ চলছে।  একই এলাকায় গড়ে উঠেছে মু. সাকুরুল ইসলাম ওরফে বড় মিয়ার ৪টি চুল্লি।  ওই এলাকায় মু. কবির ও মু. সেলিমের ২টি চুল্লি রয়েছে। 

রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নে শ্রীরামপুর বিলের পাশে গড়ে উঠেছে ৬টি চুল্লি।  এসব চুল্লির মধ্যে শ্রীরামপুর এলাকার মু. শহিদ হাওলাদারের রয়েছে ৪টি চুল্লি।  ফলে হুমকিতে রয়েছে ওই এলাকার শত শত কৃষক।  তাছাড়া প্রশাসন থেকে বন্ধ করে দেওয়া চুল্লীগুলো গোপনে মালিকেরা কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এছাড়া, নৈহাটী ইউনিয়নের রহিমনগরস্থ কাস্টমঘাট এলাকায় রয়েছে ৫/৬টি চুল্লি।  একইভাবে চাঁনমিয়ার ডক ইয়ার্ডের পার্শ্বে গড়ে উঠেছে সোহরাবের চুল্লি।  এখানে ৭/৮টি চুল্লি রয়েছে। রহিমনগর এলাকায় মুসার ডক ইয়ার্ডের ভিতরে গড়ে উঠেছে ৪/৫টি চুল্লি।  দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এ ব্যবসা।  এ ভাবে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চুল্লি।  ঘাটভোগ ইউনিয়নের বড়জালা বিলের পাশে ৩টি চুলা গড়ে উঠেছে।

প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ১০০/২৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়।  প্রতি মন কাঠ ১৩০ টাকা কিনে কয়লা তৈরি করে ৪০/৫০ টাকা দরে সেগুলো বিক্রি করা হয়।  চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি এবং ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুল্লিতে। আগুন দেওয়া শেষ হলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাঠ পুড়ে কয়লা হতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ দিন।  পরে কয়লা ঠাণ্ডা করে চটের বস্তায় ভরে ট্রলার, কার্গো বা ট্রাকে করে চালান করা হয়।

নৈহাটি ইউনিয়নের জহির খান অভিযোগ করে বলেন, কয়লার চুলার কালো ধোঁয়ায় শিশুসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।  কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করায় ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।  তাছারা চুল্লির বিষাক্ত ধোয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া করে, কাশি লাগে।

                            অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পোড়ানোর কারণে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি
স্থানীয় আরাফাত শেখ বলেন, এখানকার চুল্লিগুলোর মালিকেরা অনেকেই স্থানীয় না।  তারা প্রতিদিন সকালে আসে এবং রাতে চলে যায়।  অনেক দিন ধরে এভাবেয় এরা কাঠ পুড়িয়ে আসছে।  ফলে গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাই কষ্টকর।  আর রাতে কয়লার গন্ধে ঘুমানো যায় না।  এই ধোয়ার কারনে ফসলের ও অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা চুল্লি মালিক শহিদুল হাওলাদার জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের তার কোনো লাইসেন্স নেই।  তিনি প্রায় দুই বছর ধরে কাঠ পুড়িয়ে কয়লার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার জানান, কাঁচা কাঠ পোড়ানোয় কার্বন নির্গত হয়।  তাই এ চুল্লির ধোয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, পাকস্থলির রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, স্নায়ুরোগ, এলার্জি সমস্যা ও চোখের সমস্যাসহ নানা রোগ হতে পারে। এছাড়া পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাসরিন আক্তার বলেন, ‘এর আগে ফায়ার সার্ভিসের টিম নিয়ে চুল্লিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে অবৈধ ব্যবসা করছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে স্থায়ীভাবে চুল্লিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক সাইফুর রহমান খাঁন বলেন, যারা চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে তারা অবৈধভাবে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত দিনে বিভিন্ন চুল্লিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।  যারা কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে এবং চুল্লিগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি