মানুষের সাথে মৌমাছির বসবাস!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৪:৫৯

মানুষের সাথে মৌমাছির বসবাস!

নীল রঙের বাড়িটিতে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে ছোট-বড় মৌমাছির চাক। একটু নিকটে গেলেই কানে ভেসে আসবে গুনগুন শব্দ। বারান্দার বেলকনি, দেয়াল, ছাদের নিচসহ বাড়িটির চারপাশে ছোট-বড় ২৬টি মৌচাক তৈরি করে মানুষের সাথে বসবাস করছে লাখ লাখ মৌমাছি। বন-জঙ্গল নয় বাড়িটিই যেন তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ৮ বছর ধরে তাই বাড়িটি দখল করেই লোকালয়ে আছে তারা।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের কোড়া গ্রামের মৃত শেখ মুনসুর আলীর ছেলে শেখ আবু সাঈদের বাড়িতে গেলেই দেখা মিলবে ওই দৃশ্যের। মৌমাছির কারণে এখন আবু সাঈদের বাড়িটি পরিচিতি পেয়েছে ‘মধুবাড়ি’ হিসেবে। এলাকাবাসী ও দূরদূরান্ত হতে দর্শনার্থীরা প্রতিদিন তাই মধুবাড়িটি এক পলক দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। 

মধুবাড়ির মালিক শেখ আবু সাঈদ বলেন, এই বাড়িটি ২ বছর বানানোর পর ৭/৮ বছর আগে মৌমাছিরা আমার বাড়িতে এসে চাক বাঁধে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তারা এখানে আছে। নভেম্বরে তারা এসে বাড়ির বেলকনি, দেওয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে চাক তৈরি করে। জুন পর্যন্ত থেকে তারা আবার চলে যায়। এখন পর্যন্ত আমার বাড়িতে ২৬টি চাক আছে। তারা আপন ইচ্ছায় আসে আবার আপন ইচ্ছায় চলে যায়। আমরা তাদের নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করি। একটা মৌমাছি যদি নিচে পড়ে যায় সেটাকে আমরা সুস্থ্য করার চেষ্টা করি। এমনকি আশপাশে পিপড়া আসলেও আমরা বিষ দিয়ে পিপড়াগুলো মারিনা। কারণ বিষ দিলে মৌমাছি গুলোর ক্ষতি হতে পারে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত। আল্লাহর রহমত ছাড়া এগুলো কারো বাড়ি আসেনা। আমি, আমার স্ত্রী ও মেয়ে সার্বক্ষণিক মৌমাছিগুলোকে দেখভাল করি।

তিনি বলেন, এই মৌমাছির কারণে আমাদের অনেক স্বচ্ছলতা এসেছে। আমরা বছরে দুইবার মধু সংগ্রহ করি। এদের মধুটা অনেক ভাল। দূরদূরান্ত হতে অনেকেই আমাদের বাড়িতে মধু নিতে আসে। এছাড়া এলাকাবাসীও কোন রোগে আক্রান্ত হলে আমাদের বাড়ি হতে মধু নিয়ে যায়।

শেখ আবু সাঈদের স্ত্রী রনজিলা বেগম বলেন, সকাল উঠে আমি বারান্দা সুন্দর করে ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করি। বারান্দু মুছি তবে একটা পোকাও (মৌমাছি) আমারে কামড়ায় না। বিনা কারণে অন্য কারো কামড়ায় না। তবে কেউ যদি আঘাত করে তখন তাকে কামড়ায়। মাঝে মাঝে আত্মীয় স্বজন এসে না জেনে চাকে গুতা মারলে তখন কামড়ায়। 

তিনি বলেন, হঠাৎ তারা আসে আবার হঠাৎ চলে যায়। যখন চলে যায় তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। আবার যখন হঠাৎ চলে আসে তখন আমরা খুব আনন্দ পায়। প্রতিদিন অনেক মানুষ দেখতে আসে, তখন আমাদের অনেক ভালো লাগে। 

আবু সাঈদের ১০ বছর বয়সী ছেলে শেখ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার যখন ২ বছর বয়স তখন থেকে এই মৌমাছি আমাদের বাড়িতে আছে। এরা কামড়ায় না। এরা খুবই ভাল। এরা আমাদের বন্ধু। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান বলেন, এই বাড়িটি মধু বাড়ি নামে পরিচিত। প্রতি সিজনে এখানে মৌমাছি আসে। বাড়িতে মৌমাছির এমন দৃশ্য বাংলাদেশে আছে বলে আমার মনে হয় না। এই মৌমাছি দেখার জন্য অনেক দূরদূরান্ত হতে মানুষ আসে। এছাড়া আশে পাশের মানুষও ভিড় করে। 

দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, মানুষের সাথে মৌমাছির যে নিবিড় সম্পর্ক তা ওই বাড়িতে না গেলে বোঝা যাবে না। ওই মৌচাকের পাশেই ওই বাড়ির লোকজন বসবাস করছে। কিন্তু একটা মৌমাছিও কাউকে কামড়াচ্ছে না। ওই বাড়ির দৃশ্য দেখলে মনে হয় মৌমাছির সাথে আমাদের একটা কঠিন সম্পর্ক আছে। এটা একটা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আমরা ছোট বেলায় শুনেছি, যে বাড়িতে শান্তি থাকে সেই বাড়িইে মৌমাছি বাসা বাঁধে। আমার মনে হয় ওই বাড়িতে আসলেই অনেক শান্তি আছে। প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ মৌমাছি ওই বাড়িতে এসে হাজির হয়। এটি আল্লাহর একটি নিয়ামত।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি