মার্কিন প্রশাসনে চিঠি, কাশ্মীরে গুম, ধর্ষণ, গণগ্রেফতার চলছে

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ আপডেট: ০৯:৪৯

মার্কিন প্রশাসনে চিঠি, কাশ্মীরে গুম, ধর্ষণ, গণগ্রেফতার চলছে

একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে পুরো রাজ্যকে কারাগারে পরিণত করে রেখেছে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন অবরুদ্ধ কাশ্মিরবাসী। কাশ্মীর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রশাসনে চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও সিনেটের সাতজন আইন প্রণেতা।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্যা ডন এখবর দিয়েছে। চিঠিতে তারা বলেছেন, কাশ্মীরে ভয়াবহ সব ঘটনার অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট পাচ্ছি আমরা। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক গুম, গ্রেফতার, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের নেতাদের টার্গেট করে আটক রাখা।

এই ইস্যুতে দুই চিরশত্রু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছেন এই মার্কিন আইনপ্রণেতারা।  এ চিঠিতে ভারত দখলীকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি জোরালোভাবে ফুটিয়ে তেলা হয়েছে।

উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে তাই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরেকটি চিঠি দিয়েছে সিনেটের ৪ সদস্যরা। পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাারা।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেসওম্যান জয়াপাল এবং কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাগভার্ন। এতে তারা জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট তদন্তের জন্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও নিরপেক্ষ মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দাবি জানান।

সিনেটর নেটর বব ক্যাসি বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদা পরিবর্তন করে ভারত ভয়াবহ এক অবস্থান নিয়েছে। এ নীতির কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ভারতের কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তৈয়বা। তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এতে ভারত ও কাশ্মীরের গণতন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতি করা হয়েছে। তাই অন্যায়ভাবে আটক, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়ে ভীত হওয়া উচিত নয় সেখানকার মানুষের। কাশ্মীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, গণতান্ত্রিক আদর্শকে সমুন্নত রাখতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কাশ্মীরের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলছে, তখনই কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারত। সেখানে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে। কেড়ে নেয়া হয় জনগণের মৌলিক অধিকার। এমন অবস্থায় বেশ কিছু আইণপ্রণেতা নিন্দা জানিয়েছেন। কিছু আইন প্রণেতা উত্তেজনা প্রশমিত করতে নিজের প্রভাবকে ব্যবহার করতে আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বিশেষ সাংবিধানিক অধিকারের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো। অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নিয়েছে ভারত। 

ভারত সরকার আটককৃতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে না বললেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিগত একমাসে জম্মু-কাশ্মীরে গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ মতে, নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকারের নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলটি এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেশী পাকিস্তান এর তীব্র সমালোচনা করছে। প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইমরান খানের সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছেদ করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে এবং দিল্লি থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি