কাবার আদলে তৈরি হবে ‘অযোধ্যার বাবরি মসজিদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৯:৩৪

কাবার আদলে তৈরি হবে ‘অযোধ্যার বাবরি মসজিদ’

রাম জন্মভূমি মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী বাবরি মসজিদ অন্যত্র তৈরি হবে। সেটি নির্মিত হতে যাওয়া রাম মন্দির থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। তবে অযোধ্যায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া মসজিদটি প্রচলিত আঙ্গিক নয়; বরং ভিন্ন আঙ্গিকে অনেকটা ‘কাবার আদলে’ নির্মাণ করা হবে। 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের (আইআইসিএফ) সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আতহার হুসেইন জানিয়েছেন, মসজিদের প্রথাগত আদলের বাইরে গিয়ে নির্মাণ হবে এটি। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের আদলে এটি নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আতহার জানান, নতুন মসজিদটি কোনও সম্রাট বা বাদশাহের নামে নামকরণ করা হবে না। অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে সরকার প্রদত্ত পাঁচ একর জমিতে নির্মাণ হবে নতুন মসজিদ।

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিবাদের আইনি ইতি টেনে অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। 

তাতে আরও বলা হয়, অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা দুটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেন আদালত।

রায় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গত আগস্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে শুরু করেছে রাম মন্দির নির্মাণ। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয় রাজ্য সরকার। 

সেখানে মসজিদ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।

ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন জানান, ধন্নিপুর গ্রামে নির্মাণ হবে ১৫ হাজার বর্গফুটের মসজিদ। এটি বাবরি মসজিদের আকারের সমান। তিনি বলেন, ‘মসজিদটির আদল হবে অন্য মসজিদগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্থপতি এসএম আখতার ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটির আদল মক্কার কাবা শরিফের মতো বর্গাকৃতির হতে পারে।’

কাবা শরিফের মতো ধন্নিপুরের মসজিদটিও গম্বুজ ও মিনার ছাড়াই নির্মাণ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আতহার হুসেইন বলেন, ‘সেটা একটা সম্ভাবনা হতে পারে।’ তিনি জানান, ‘এই বিষয়ে স্থপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন বলেন, ‘মসজিদটির নাম বাবরি মসজিদ হবে না। কোনও বাদশাহ কিংবা সম্রাটের নামেও এটির নামকরণ হবে না। আমার ব্যক্তিগত মত হলো এটিকে ধন্নিপুর মসজিদ নাম দেওয়া উচিত হবে।’

মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে জাদুঘর, হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান আতহার হুসেইন। এজন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্দেশে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট বানানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ওই ওয়েবসাইটে ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লেখা থাকবে। পোর্টালের কাজ এখনও কিছুটা বাকি রয়েছে। আর সে কারণে অনুদান সংগ্রহ শুরু করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী ‘করসেবকেরা’ অযোধ্যার বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি, ওই স্থানেই ছিল প্রাচীন রাম মন্দির।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি