দক্ষিণ আমেরিকায় দেশে দেশে লকডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:৩২ আপডেট: ১২:৩২

দক্ষিণ আমেরিকায় দেশে দেশে লকডাউন

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি গতকাল বুধবার থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশগুলোতে আরও বেশি লকডাউন, সীমান্ত বন্ধ ও দরিদ্র অঞ্চলে সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে ১২৩ জন। এ পরিস্থিতিতে বলিভিয়া ও কলম্বিয়া পুরোপুরি লকডাউন করে দিয়েছে। চিলি এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এক নজরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর পরিস্থিতি জেনে নিন-

কলম্বিয়া: দেশটিতে গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে তিন সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভান ডুকু নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘বাড়িতে থাকুন। ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধ করুন এবং জীবন বাঁচান।’ আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ লকডাউন থাকবেন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ৫০০ রোগী পাওয়া গেছে। গত রোববার থেকে দেশটির রাজধানী বোগোতায় মেয়রের আদেশে লকডাউন হয়ে রয়েছে।

পানামা: ফ্লু উপসর্গের ৪২ রোগী থাকা সত্তেও হল্যান্ড-আমেরিকা ক্রুজ লাইন পরিচালিত জানদাম জাহাজটিকে পানামা খালের ওপর দিয়ে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোজারিও টার্নার। জাহাজটিতে ১ হাজার ৮০০ যাত্রী রয়েছে। ৭ মার্চ বুয়েনস এইরেস থেকে যাত্রা শুরু করে এটি সান আন্তোনিওর উদ্দেশে যাচ্ছে।

পানামা নিয়ম করেছে, পানামাতে আসা প্রতিটি জাহাজকে অসুস্থ মানুষের তালিকা দিতে হবে। যদি কারও শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে, তবে তাঁকে নামতে দেওয়া হবে না। পানামাতে এখন পর্যন্ত ৫৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বলিভিয়া: গতকাল মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বলিভিয়া তাদের সীমান্ত বন্ধ রাখার পাশাপাশি কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জিনাইন আনেজ ‘পরিচ্ছন্নতার জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার লকডাউনের আদেশ দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হচ্ছিল বলে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা এসেছে। কঠোর পদক্ষেপ নিতে রাস্তায় পুলিশ ও সেনা টহল শুরু হচ্ছে। এতে সীমান্ত অতিক্রম বা মানুষের বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

চিলি: বৃহস্পতিবার রাত থেকে চিলির সান্তিয়াগোর ১৩ লাখ মানুষকে লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাদের লকডাউনে থাকতে হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, মে মাস পর্যন্ত দেশটির স্কুল বন্ধ থাকবে। প্রথম করোনার রোগী পাওয়ার পরপরই ১৬ মার্চ থেকে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেসি মানালিচ বলেন, লকডাউন এলাকাগুলোয় সংক্রমিত রোগীদের ঘনত্ব ও মানুষের চলাচলে রোগ বেশি ছড়াতে পারে। তাই মানুষকে ঘরের মধ্যেই থাকতে হবে। চিলিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার ১০০ রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৩ জন মারা গেছেন।

হন্ডুরাস: দেশটিতে সেনাসদস্যরা লকডাউনে থাকা লোকজনকে খাবার সরবরাহ শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ বলেছেন, মানুষকে ঘরে রাখতে দেশটির ৮০ হাজার মানুষকে খাবার সরবরাহ করা হবে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

মেক্সিকো: মেক্সিকোর বৃহত্তম ব্যাংক বিবিভিএ পূর্বাভাস দিয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এ বছর অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পাবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ মেক্সিকো থেকে পণ্য আমদানি করে, তাদের কাছে রপ্তানি কমে যেতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব বেড়ে গেলে মেক্সিকোর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও কমে যাবে। বারক্লেইস ও ক্রেডিট সুসির মতো ব্যাংকগুলোও দেশটির অর্থনীতি ২ থেকে ৪ শতাংশ কমে যাওয়ার কথা বলেছেন।

ব্রাজিল: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো সতর্ক করে বলেছেন, সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোর গভর্নরেরা যদি শাটডাউন অবস্থা তুলে না নেন, তবে মারাত্মক বিশৃঙ্খল পরিস্থিত সৃষ্টি হবে। সুপারমার্কেট লুট শুরু হয়ে যাবে। দেশটির জনবহুল দুটি অঙ্গরাজ্যে স্কুল ও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলো কিছুই উৎপাদন করছে না। কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না। যদি অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, তবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। যদি সুপারমার্কেট লুট শুরু হয়, তবে আমাদের বিশৃঙ্খলা ও ভাইরাস দুটো সমস্যা প্রকট হয়ে উঠবে।’

উরুগুয়ে: উরুগুয়েতেও আঘাত হেনেছে করোনা ভাইরাস। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ২১৭ জন রোগী পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য শ্রমিক আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলন চালাচ্ছেন দেশটিতে।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ হাজার ২৯৫ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮ জন। 
 
বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৩৩১ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৪২ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৮৫ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩১ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৩৯ জনের অবস্থা সাধারণ। ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি