কঙ্গোতে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, নিহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:৩৮

কঙ্গোতে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, নিহত ৪০

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’র (এডিএফ) হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। উগান্ডা সীমান্তবর্তী সাম্বোকো গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গলে বেসামরিক নাগরিকদের উপর এটি এডিএফ’র সর্বশেষ ভয়াবহ হামলা। খবর আল জাজিরা।

এডিএফ’র প্রতিদ্বন্দ্বী রাইটস গ্রুপ সেপাঢোর ওমর কাভোটা বুধবার (২৭ মে) জানিয়েছেন, বুনিয়া শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের সাম্বোকো গ্রামে হামলা চালিয়ে অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এডিএফ) গ্রুপের যোদ্ধারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই গ্রুপটি ১৯৯০ এর দশকের শেষদিকে উগান্ডা থেকে জন্ম নেয় বলেছিলেন উমর কাভোটা।

মঙ্গলবার ভোরে নিকটস্থ মাকুতানো গ্রামে কমপক্ষে ১৭ জনকে হত্যা করার পরে এডিএফ সদস্যরা সাম্বোকো গ্রামে কমপক্ষে ৪০ জনকে হত্যা করেছে। এ সময় তারা খাবার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছে, যোগ করেছেন উমর কাভোটা।

অঞ্চলটিতে সংঘাত নিয়ে গবেষণা চালানো প্রতিষ্ঠান কিভু সিকিউরিটি ট্র্যাকার (কেএসটি) জানিয়েছে, গত বছর সেনাবাহিনী এডিএফ’কে তাদের ঘাঁটি থেকে হঠাতে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এডিএফ’র হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

কেএসটি জানিয়েছে, দুই মাসের মতো পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর, এই অঞ্চলে গত তিন সপ্তাহে মারাত্মক হামলার সংখ্যা আবারও বেড়ে গেছে।

দেশটির সরকারি প্রশাসক রাহেল তারোয়াও জানিয়েছেন, তিনি সাম্বোকো আক্রমণের বিষয়ে সচেতন ছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনও বিবরণ দিতে পারেননি।

এই অঞ্চলে অধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করা গিলি গোটোবো সহিংসতার হাত থেকে বেঁচে যাওয়াদের ভয়াবহতার গল্প বলছিলেন, “এই ভূমিতে ভয়াবহ হামলায় কিছু লোক পালিয়ে গেছে। অন্যরা নিজেদেরকে সেই মুহূর্ত আসা পর্যন্ত থাকার সাহস দিয়েছে।”

এডিএফ জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএসএল (আইএসআইএস) এর প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে গবেষকরা বলছেন, তাদের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার কোনও প্রমাণ নেই। যদিও আইএসআইএল কয়েকটি এডিএফ আক্রমণকে সমর্থনও করেছে।

বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তৃত সহিংসতার কারণে গত দু’মাসে প্রায় দু’ লক্ষ মানুষ ইটুরি প্রদেশ থেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যেখানে ওই দুটি গ্রাম অবস্থিত। এই হামলাগুলি ইবোলা মহামারি দূরীকরণের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে জানুয়ারিতে জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ ইতুরিতে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে, সেখানকার কিছু মৃত্যুর ঘটনা “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

গত মাসে ইটুরি প্রদেশের কলি গ্রামে এক হামলায় হেমা সম্প্রদায়ের ২২ জন মারা গিয়েছিল। যেই হামলার জন্য কঙ্গোর উন্নয়নের জন্য সমবায় এবং লেন্ডু নৃগোষ্ঠী থেকে উদ্ভুত সশস্ত্র রাজনৈতিক-ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দোষ দেওয়া হয়েছিল।

লেন্ডু নৃগোষ্ঠী, যারা প্রধানত কৃষক এবং হেমা সম্প্রদায়, যারা প্রধানত পশু পালন ও ব্যবসায়ী। সোনা এবং তেল সমৃদ্ধ ইটুরি অঞ্চলে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

গবেষকরা এবং অধিকার দলগুলি বলেছে যে, কিছু কঙ্গোলি সেনাও ২০১৪ সালের পর থেকে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এসব হত্যায় অংশ নিয়েছে। যা কয়েক ডজন সশস্ত্র গোষ্ঠী অধ্যুষিত সম্পদ সমৃদ্ধ আইনহীন অঞ্চলটিতে ক্ষমতার প্রতিযোগিতার সাথে সম্পর্কিত। 

ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি