পরিবারকে সাহায্যে মেয়েদের স্কুল ছাড়ায় উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:১১

পরিবারকে সাহায্যে মেয়েদের স্কুল ছাড়ায় উদ্বেগ

করোনায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামালাতে ব্যয়সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে বিশ্বের সব বড় কোম্পানি। এতে করে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক এক সংকট হাজির হয়েছে। যার ফলে কোম্পানির দেখানো পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলোও। বিশেষ করে এশিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলের পরিবারগুলো খরচ কমাতে ও সম্ভাব্য আয়ের উৎস খুঁজতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে মেয়েদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে উপার্জনে যুক্ত করার পথ।

করোনার শুরুতেই সরাসরি শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে যেসব মেয়ের ন্যূনতম হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, তাও হুমকির মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দরিদ্র পরিবারগুলো অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের মেয়েদের অর্থ উপার্জনের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

লিনা (ছদ্মনাম), কম্বোডিয়ার একাদশ শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ছিল হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করবে। কিন্তু তার পরিবার এখন চাইছে, সে বিদ্যালয় ছেড়ে দিক। এর বিপরীতে কোনো কাজে যোগ দিয়ে সহায়তা করুক পরিবারের ঋণ পরিশোধে। 

শুধু লিনাকেই নয়, বর্তমানে করোনাজনিত অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে কম্বোডিয়া, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মেয়েদের। 

নারীশিক্ষা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন ‘রুম টু রিডের’ এক জরিপে দেখা গেছে, এসব দেশের ৪২ শতাংশ মেয়ে জানিয়েছে যে কভিড-১৯ এর কারণে তাদের পরিবারের আয় কমে গেছে। 

ফলে প্রতি দুজন মেয়ের মধ্যে একজন বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মোট ২৮ হাজার মেয়ের মধ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করে রুম টু রিড।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জন উড বলেন, যখন পরিবারগুলো আর শিক্ষার ব্যয় বহন করতে পারে না, তখন তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অধিকাংশ সময়ই ছেলেদের বেছে নেয়া হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় অর্থনৈতিক সংকট মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মূলত মহামারি বিশ্বজুড়েই বিপুল পরিমাণের বেকারত্ব সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে কমে গেছে পারিবারিক উপার্জন, যা ১০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। 

এ অবস্থায় মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মালালা ফান্ড বলছে, বৈশ্বিকভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত দুই কোটি মেয়ে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ছেলে ও মেয়ে। 

যার ফলে সার্বিকভাবে দরিদ্র দেশগুলোয় মেয়েদের জন্য শিক্ষা ও লিঙ্গবৈষম্য আরো বাড়বে। কারণ মহামারির আগে থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় অংশগ্রহণে মেয়েরা পিছিয়ে ছিল।

পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের এডুকেশন প্র্যাকটিস ম্যানেজার টবি লিন্ডেন বলেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে আরো বহু সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে তীব্র সংগ্রাম করতে হবে। ফলে তাদের পক্ষে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। 

তার ভাষ্যে, অথচ দেখা গেছে নারীশিক্ষার ঘাটতি নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাদের মজুরির ওপর প্রভাব ফেলে। যদি কোনো মেয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে এক বছর বেশি পড়াশোনা করে, তবে ভবিষ্যতে তার পক্ষে ২০ শতাংশ বেশি মজুরি প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউনিসেফের পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিকের আঞ্চলিক উপদেষ্টা ফ্রান্সিসকো বেনাভিদেস বলেন, সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, বিদ্যালয় খুললেই যে সব শিশু শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসতে সক্ষম হবে তা নয়। এ অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর মহামারি ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। 

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আর এখন যদি মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে পরিবার ও সমাজকে এ অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে আরো ভুগতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি