অবাধ ঘোরাঘুরিতেই ইউরোপে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:৫৭

অবাধ ঘোরাঘুরিতেই ইউরোপে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বারবার সতর্ক করে বলছে, কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেই যে বিপদ কেটে গেছে, এমনটা ভাবার কিছু নেই। কিন্তু এমন সতর্কতাকে গুরুত্ব না দেয়ার অন্যতম উদাহরণ ইউরোপ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গুরুত্বহীনতার কারণেই আসছে শীতে আরও বড় মাসুল দিতে হতে পারে ইউরোপকে।

ইউরোপে সংক্রমণ কমতে শুরু করায় ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোদমে সচল করেছিল। খুলে দেয়া হয়েছিল স্কুল। এমনকি পর্যটনকে চাঙ্গা করতে ইউরোপের মধ্যে সফরে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে দেয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেয়া শুরু করেছিল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো।

এমনকি বিষয়টি সরকারও ব্যাপক সাহায্য করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত প্রচারও করেছে তারা। যেমন, নির্দিষ্ট কোনও একটি হোটেলে উঠলে মাথাপিছু ৫০ ইউরো ছাড়। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ঘরবন্দি থাকার পরে তাই গরমের ছুটিতে বেরিয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এতেই দ্রুত সংক্রমণ বেড়েছে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতেই সপ্তাহান্তে ব্রিটেনের সমুদ্র সৈকতে পার্টির আমেজ বেড়ে যায়। পাবগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। এ ধরনের বেপরোয়া কাজকর্মকেই কাঠগড়ায় তুলেছে ব্রিটিশ সরকারকে। ইংল্যান্ডে ২০ লাখ মানুষকে ফের লকডাউন করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে ফের লকডাউনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
 
পরিস্থিতির অবনতিতে সরকার ঘোষণা করেছে, কেউ আক্রান্ত হলে তাকে ও তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি করা হবে। আইসোলেশনে থাকতে হবে তাদের। আর তা করলে এক থেকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হবে। কোনও দরিদ্র ব্যক্তি ঘরবন্দি হয়ে পড়লে তাকে ৫০০ পাউন্ড অর্থসাহায্য করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে।

সংক্রমণ কমে আসায ফ্রান্সেও সব পর্যটনস্থল খুলে দেয়া হয়েছিল। সেন নদীর তীরে উপচে পড়ছিল ভিড়ে। পর্যটন কেন্দ্র প্যারিসের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ। এ ভাবেই দেশটিতে ফের দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপ যখন প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র তখনও দেশটিতে একদিনে এত সংক্রমণ ঘটেনি।

নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনায় নেদারল্যান্ডস বলছে, এভাবে চলতে থাকলে সেখানেও দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াবে। ডব্লিউএইচও ইউরোপ শাখার প্রধান হান্স ক্লুগ বলেন, মার্চেও ইউরোপ এমনটা ছিল না। তার কথায় এর অন্যতম কারণ, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে জারি বিধিনিষেধ পরিস্থিতি একটু ভালো হতেই তুলে নিয়েছিল ইউরোপ।’

এদিকে স্কুল খুলে দেয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে যায়। কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছে স্পেনের রাজকন্যাকেও। স্কুলে তার সহপাঠী করোনায় আক্রান্ত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনে দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে ৫০ হাজার ছুঁয়েছে। মৃত্যুও বাড়ছে। ফলে নতুন করে কিছু এলাকা লকডাউন। দেশজুড়ে তার চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিসি) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটা কম হলেও জনসংখ্যার বিচারে ইউরোপে করোনায় মৃত্যুহার ভারতের তুলনায় অনেক বেশি।

ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি