মানুষের পারসেপশন হয়ে গেছে, রাজনীতি করা মানেই ‘দুর্নীতি’ করা

রাহাত হুসাইন
১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ১১:২৬ আপডেট: ০৭:৪৭

মানুষের পারসেপশন হয়ে গেছে, রাজনীতি করা মানেই ‘দুর্নীতি’ করা

মাহবুব উল আলম হানিফ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। টানা তৃতীয়বারের মত এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্বও করছেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে নিয়ে তিনি দলকে জয় উপহার দেন। তার পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ম.আ.রহিম সড়ক কোর্ট পাড়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে পুরোদস্তুর সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও মাহবুব উল আলম হানিফ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। 

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে আসে সমসাময়িক রাজনীতির নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।

ব্রেকিংনিউজ : রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে; বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : আসলে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে দুর্নীতি সংক্রান্ত যে ধারণা, সেটা পরিষ্কার নয়। অনেক সময় আমরা মিডিয়াতে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি। দুর্নীতিটা কীভাবে হয়? দুর্নীতি নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় একজন মানুষের বৈধভাবে উপার্জিত অর্থকে অনেকে দুর্নীতি হিসেবে ভাবতে চায়। 

ব্রেকিংনিউজ : আপনি রাজনীতিক আবার পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ীও। কী বলবেন? 

মাহবুব উল আলম হানিফ : আমার একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। আমার একটা ফার্ম আছে। আমার ফার্ম থেকে বাগদা চিংড়ি রফতানি হয়। এই ফার্ম থেকে বছরে আমার ২ কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকা প্রোফিট হয়। সেখান থেকে আমি ট্যাক্স দিই। আমি যখন ট্যাক্স দিচ্ছি আমার প্রফিটের অংশ থেকে, আমার ২ কোটি থেকে- তখন এই টাকাটা পুরোটাই কিন্তু আমার সম্পদের হিসাবে রয়ে যাচ্ছে না। আমার আয় থেকে আমাকে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার পর দেখা যাচ্ছে, এই টাকার কিছুই থাকে না। প্রতি বছর এই ২ কোটি-আড়াই কোটি টাকা আয় হিসেবে ট্যাক্স দিচ্ছি। তখন এটা সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৫ বছরে এটা পরপর প্রফিট হলে, এই ৫ বছরে আয় হিসেবে দেখালে আমার ১০ কোটি টাকা আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। যেহেতু আমি ট্যাক্স দিচ্ছি, সে ১০ কোটি টাকা আছে; কি নাই, সেটা বড় কথা নয়। আমার কাগজে কিন্তু এটা আমার সম্পদ।

আমার ব্যবসায়িক এই আয় নিয়েও অনেকে ভাবে। ৫ বছরে আমি ১০ কোটি টাকা আয় করে ফেললাম, এই ভাবনা। এটাই হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের মানসিকতা। নেতিবাচক রাজনীতির কারণে যেকোনও অজুহাতে রাজনীতিবিদের একে অপরকে ঘায়েল করার প্রবণতা থাকে। তাই এখন মানুষের পারসেপশন হয়ে গেছে, রাজনীতি করা মানেই দুর্নীতি করা। যারাই রাজনীতি করে তারাই দুর্নীতি করে। তবে রাজনীতিবিদরাও অনেক সময় কিছু কিছু জায়গায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। যদি কোনও পার্লামেন্ট মেম্বার তার এলাকায় গম, টিআর-কাবিখা এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিজেদের ইন্টারফেয়ার করে, অনৈতিক কাজ করে তবে তিনিও অভিযুক্ত হতে পারেন।

ব্রেকিংনিউজ : চাকরির নিয়োগে সুপারিশ করেও রাজনীতিবিদের অবৈধ লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে, এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

মাহবুব উল আলম হানিফ : নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের কি কোনও ক্ষমতা আছে? নিয়োগ দেয় সরকারি কর্মকর্তারা। আমাদের কাছে আসলে আমরা হয়তো দু-একজনের সুপারিশ করতে পারি। এই সুপারিশ করার কারণে হয়তো দু-একজনের চাকরি হয়। এখন আমাদের কাছে যারা সুপারিশ নিয়ে আসে, তারা যদি কেউ অনিয়ম করে, আর্থিক সুবিধা নেয়, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তো দেখা যায় যে, একটা দফতরে যদি ৫০ জনের নিয়োগ হয়, তার মধ্যে রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সুপারিশ যায় হয়তো ৫-১০ জন। বাকি ৪০ জন, তারা তো সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়োগকৃত হচ্ছে, ওরা (সরকারি কর্মকর্তা) যদি অনৈতিকভাবে এ নিয়োগ প্রধান করে, এর দায়ভার কি রাজনীতিকদের ওপরে পড়ে?

ব্রেকিংনিউজ : সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই, একটু ব্যাখা করে বলেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : যদি কোনও সরকারি ক্রয় বা সরকারি কোনও কর্মের মধ্যে অনৈতিকভাবে কোনও উপার্জন হয়; সেগুলো দুর্নীতি। যেমন, কোনও নিয়োগ নিয়ে অনৈতিকভাবে লেনদেন হলে সেটা দুর্নীতি। বদলি-প্রমোশনের ক্ষেত্রে যদি কোনও আর্থিক লেনদেন হয়, সেটাও দুর্নীতি। সরকারি যে ক্রয়টা হয়, এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা। একটা ডিপিপি তৈরি হয়, আমি ধরলাম একটা ফোর লেনের রাস্তা হবে, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার। কতটুকু হবে, কি কি ম্যাটেরিয়ালস লাগবে, এই ডিটেইলস প্ল্যান তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, যারা ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী তারা। একটা হসপিটাল তৈরি হচ্ছে, সেখানে হসপিটালের বিল্ডিং থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল, খাট, যন্ত্রপাতি প্রায় সবগুলোই কেনা হয় প্ল্যান মোতাবেক। এই প্ল্যানটা তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্ল্যান তৈরি করার পরে এটা যাচাই-বাছাই হয়। যাচাই-বাছাই হওয়ার পরে চূড়ান্তভাবে মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, ডেপুটি সেক্রেটারি,  জয়েন সেক্রেটারি, এডিশনাল সেক্রেটারি সই হয়ে মন্ত্রীর কাছে যায়। এতগুলো যাচাই-বাছাই ধাপ পার হয়ে যাওয়ার পরে মন্ত্রীর পক্ষে কি সম্ভব, এই ফাইলগুলো খুঁজে ৩০০ পৃষ্ঠার প্রতিটা পাতায় পাতায় চেক করা।

কোনও জায়গায় ৭ হাজার টাকার পর্দা, ৩৭ লাখ টাকা দিয়েছে; না ৭০০ টাকার বালিশ ৭ হাজার টাকা দিয়েছে; এটা দেখা সম্ভব? সম্ভব না। যেহেতু সরকারের এতগুলো দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে সই করে দিচ্ছেন, তখন অটোমেটিক মন্ত্রীও সই করে দেন। এই কর্মের দায়ভার কি কোনও রাজনীতিবিদের ঘাড়ে আসতে পারে? এর সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মকর্তারা। দুর্নীতি করে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, দোষ হয় রাজনীতিবিদদের। আমরা যদি দেখি সরকারের যত বড় বড় প্রজেক্ট হয়, কারা তৈরি করে, ডিপিপি কারা তৈরি করে। কোনও রাজনীতিবিদ কি করে, কোনও ব্যবসায়ী কি করে? করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুর্নীতি তো করছে ওরা। অথচ সবাই চেয়ে থাকে রাজনীতিবিদদের দিকে।

ব্রেকিংনিউজ : দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরিবর্তে অন্য কর্মকর্তা দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি কমবে কিনা?  

মাহবুব উল আলম হানিফ : আমরা অনেক সময় বলি সরকারে যারা থাকে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে কোনও প্রকল্পে যাতে অনিয়ম না হয় সেটা দেখা। দুর্নীতি দমন করা। আমি আমার অধীনস্থ কোনও কাজ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে কিনা, এটা মনিটরিং করার দায়িত্ব দিতে হলেও তো সরকারি কর্মকর্তাকেই দেবো। আমি কোনও রাজনীতিবিদকে ডেকে এনে তো বলতে পারি না, এ কাজে কোনও অনিয়ম আছে কিনা দেখে চেক করে দিতে। দায়িত্ব দিতে হলে তো অধিদফতরের আরেকজন কর্মকর্তাকে দেয়া হচ্ছে। তারা সবাই যদি মিলেমিশে অনিয়ম করে সে দায়ভার ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদের দেয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।  

ব্রেকিংনিউজ : দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনা হবে কিনা?

মাহবুব উল আলম হানিফ : সেটা তো সরকার জানে, সরকার বলতে পারে- এখন সরকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কতটুকু ব্যবস্থা নিতে পারবে। আমরা দেখি ফোর্থ ক্লাসের ইমপ্লোইদের অনেক সময় ধরা হচ্ছে দুর্নীতির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কারণে। আমরা ৩০-৩৬ বছর দরে রাজনীতি করছি, পাশাপাশি ব্যবসা করছি। এই ৩৬ বছর ধরে ব্যবসা করেও আমরা ব্যাংক ঋণের বোঝা থেকে বের হয়ে আসতে পারি নাই, ঋণের বোঝা আমাদের ঘাড়ে। আর একজন ফোর্থ ক্লাসের ইমপ্লোই, (কেরানী-পিয়ন) সেও দেখি শত শত কোটি টাকার মালিক। বাংলাদেশে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী কেউ বলতে পারবে না তাদের ব্যাংক ঋণ নেই।

ব্রেকিংনিউজ : ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে নয়, এদেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমরা সব সময় বলি- দুর্নীতিকে কঠোর হস্তে দমন করা উচিত। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি দেশের জনগণের কাছে সঠিকভাবে  পৌঁছায় না। জনগণ বঞ্চিত হয়। অতএব দুর্নীতিকে যদি শক্তভাবে বন্ধ করা যায়, তাহলে আমাদের দেশের সম্পদ ব্যবহার করে উন্নয়ন-অগ্রগতির সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ভোগ করতে পারবে।

ব্রেকিংনিউজ : আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতৃত্বে নতুনত্ব আসবে কিনা?

মাহবুব উল আলম হানিফ : আমরা একটা বিষয় বলি, আমাদের সভানেত্রী প্রতিটা সম্মেলনের সময় দলকে গতিশীল করার জন্য আমাদের নেতৃত্বের মধ্যে যারা যোগ্য, যাদের ক্লিন ইমেজ আছে এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রাধ্যান্য দেয়া হয়। যারা নিষ্ক্রিয়, যারা নিজেদের কর্মদক্ষতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের অটোমেটিক্যালি ঝড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা লাস্ট তিনটা সম্মেলন দেখেছি, প্রতিটি সম্মেলনে ২০-২৫ জন বাদ পড়েছে, আবার নতুন করে যোগও হয়েছে।  

ব্রেকিংনিউজ : আপনার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

মাহবুব উল আলম হানিফ : চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থা বরাবরই একটু জটিল ছিলো। চট্টগ্রাম মহানগরে রাজনৈতিক মেরুকরণ ছিলো। কুমিল্লার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সমস্যা ছিলো ও নোয়াখালীর রাজনীতিতে সমস্যা ছিলো। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রাজনীতি কমপ্লিকেটেড ছিলো। আমরা চেষ্টা করেছি, যে সমস্ত জায়গায় জটিল অবস্থায়, সমস্যা ছিলো সেগুলোর সমাধান করতে। কুমিল্লায় সমস্যা নিরসন হয়ে গেছে। নোয়াখালীতেও সমস্যা নেই। ফেনীতে কাজ চলছে। আমাদের পার্বত্য অঞ্চলেও সম্মেলনে হয়েছে, শুধু রাঙামাটির সম্মেলন করা এখনও সম্ভব হয়নি।

আমাদের বেশি সমস্যা চট্টগ্রাম মহানগরে। মহানগরে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক বৈরী অবস্থা ছিলো। বিভাজন ছিলো। সেই বিভাজনের রেশ এখনও রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মহানগরে একটু জটিলতা আছে, আমরা সেটা এখনও নিরসন করতে পারিনি। জাতীয় কাউন্সিলের আগে এটা করা হয়তো সম্ভব হবে না। জাতীয় কাউন্সিলের পরে চট্টগ্রাম মহানগরের কাউন্সিল করবো। সেই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে এই জটিলতা নিরসন হবে আশা করি।

ব্রেকিংনিউজ : আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার মঞ্চ থেকে প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এটার কারণ কী?
 
মাহবুব উল আলম হানিফ : মাঝে একটা কর্মীসভা ছিল, সেই কর্মীসভায় মঞ্চে কারা বসবে কারা করবে না তা নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিশেষ করে পত্রিকার ভুল রিপোর্টিং-এর কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমি যতটুক জেনেছি, ৬টি জেলার প্রতিনিধি সভার গেস্ট হিসেবে  মঞ্চে কারা কারা থাকবে এটা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। মিটিং চলাকালীন অবস্থায় অনেক গেস্ট মঞ্চে অবস্থান করছিলো। সেই সময় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মাইকে কয়েকবার ঘোষণা দেন- নির্ধারিত গেস্ট ছাড়া যারা ওপরে আছেন তারা নিচে চলে চান। তিনি নির্দিষ্টভাবে কারও নাম বলেননি। পরে আমরা জেনেছি, এটা আমাদের কোনও নোটিশে ছিলো না। আমরা মিটিং শেষ করে এয়ারপোর্টে চলে এসেছি। তারপরে শুনলাম আমাদের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী মঞ্চে ছিলেন। নাছির সাহেবের এ ঘোষণার পর উনিও নেমে যান। এতে হয়তো প্রয়াত মেয়র সাহেবের অনুসারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নোটিশে আসার পর জিজ্ঞেস করেছিলাম, নাছির সাহেব বলেছেন, তিনি কারো নাম ধরে বলেননি। তিনি ওভারঅল সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী নেমে গিয়েছিলেন। আমরা মেয়র নাছিরকে বলেছিলাম যে, উনার সঙ্গে দেখা করে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করার জন্য। আমি যতটুকু জেনেছি, পরবর্তীতে এই ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়ে গেছে, এটা নিয়ে আর ভুল বোঝাবুঝি নেই।
 
ব্রেকিংনিউজ : আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না?

মাহবুব উল আলম হানিফ : কাউন্সিলের প্রস্তুতি আমাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে। কাউন্সিলের কতগুলা পার্ট আছে, প্রথমটা হলো মঞ্চ ও সাজসজ্জা, দ্বিতীয়টা হলো আমাদের ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্রের ব্যাপার, তৃতীয়টা হলো সাংগঠনিক রিপোর্ট - এটাই হলো কাউন্সিলের মূল। আমাদের মঞ্চ ও সাজসজ্জা প্রস্তুত হয়ে আছে। ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্র নিয়ে আমাদের কয়েক দফা মিটিং হয়ে গেছে, এটাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। আমাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট ১৫ তারিখের পর থেকে তৈরি করা হবে। আমাদের নরমালি ৬ হাজার ৮০০ কাউন্সিলর থাকেন সারা দেশ থেকে। সঙ্গে ডেলিগেট থাকবেন ২৫-৩০ হাজারের মতো।

ব্রেকিংনিউজ : সময় দিয়ে কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
 
মাহবুব উল আলম হানিফ : আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি পরিবারকেও ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি