শাহাদাত হোসেনের চোখে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ভেতর-বাহির

সাইফুল ইসলাম
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ১২:০০ আপডেট: ০৪:৪১

শাহাদাত হোসেনের চোখে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ভেতর-বাহির

ভোটে ভোটারদের অনাস্থা ও অনাগ্রহ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। যেখানে দুই সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী দুই মেয়র প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে গড়ে ভোট পড়েছে ২৯ শতাংশ। সঙ্গে কেন্দ্র দখল, ভীতি প্রদর্শনসহ এমন নানা অভিযোগ তো রয়েছেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। আর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে তা হলো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। যেখানে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারও ভোট দিতে গিয়ে আঙুলের ছাপ না মেলায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ড. কামাল হোসেন কিংবা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের মতো ব্যক্তিত্বরাও ইভিএমে ভোট দিতে দিয়ে বিব্রতকর অবস্থার সাক্ষী হয়েছেন। 

দুই সিটিতে নির্বাচনে গড়ে ভোট পড়েছে ২৯ শতাংশ। ঢাকা উত্তরে সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২৩ শতাংশ ও ঢাকা দক্ষিণে সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) পড়েছে ২৫ শতাংশ ভোট। 

বহুল আলোচিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন, সরকার ও বিরোধীদলগুলোর পক্ষ থেকে যখন নানা মত ও বক্তব্য উঠে আসছে তখন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.)। নির্বাচনের নানাদিক নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সাইফুল ইসলাম।  

ব্রেকিংনিউজ : আপনার চোখে সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেমন দেখছেন?

শাহাদাত হোসেন : আমার চোখে ভালো নির্বাচন ছিলো। তবে ভোটার শতকরা পোর (কম)৷ আর একটু আশা করেছি। ভোটের প্রচার প্রচারণা দেখে মনে হয়েছিল, ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। সেটি হয়নি। 

ব্রেকিংনিউজ : সিটি নির্বাচনে ভোট কম পড়ার কারণ কী? 

শাহাদাত হোসেন : নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে নির্বাচনের আয়োজন করা। ভালোভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। এই নির্বাচনে ভোট কম পড়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন ধরেন, অবকাঠামোগত একটা কারণ থাকে। এখন আর আগের মতো ভোটাররা নিজেরা কষ্ট করে ভোট দিতে যেতে চায় না। তবে যারা গিয়েছে তারা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছে। 

তারপরে রাজনৈতিক একটা কারণ থাকে। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর। আর ভোট কম পড়ার একটা বড় কারণ হলো যান চলাচল বন্ধ থাকা। ভোটের দিন যান চলাচল না করার কারণে কেউ পকেটের টাকা নষ্ট করে, সময় নষ্ট করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভোট দিতে যেতে আগ্রহী নয়। 

এছাড়াও সামনে এসএসসি পরীক্ষা ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার একটা বড় কারণ। যে বাসায় এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সে বাসার ভোটারদের না আসার সম্ভাবনা অনেকটা। তারপরে শীতকালের একটা বিষয় থেকে যায়। শীতের সকালে ভোটকেন্দ্রে তেমন একটা ভোটার পাওয়া যায় না। ছুটিও একটা বড় কারণ। ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার-শনিবার) টানা তিনদিন ছুটি থাকার কারণে অনেকে ঢাকা ছেড়ে গিয়েছে। ফলে তারা ভোট দিতে পারেনি।  

পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে নেগেটিভ প্রচার-প্রচারণা ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার একটা অন্যতম কারণ হতে পারে। ভোটের প্রচারণায় ইভিএমকে নানাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেজন্য হয়তো ভোটারদের মাঝে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে আমি আবারও বলি- ইভিএমে ভোট দিতে হলে ভোটারকেই দিতে হবে। এখানে একজনের ভোট আরেকজনে কিংবা কারচুপি করার কোনও সুযোগ নেই।

ব্রেকিংনিউজ : বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর প্রার্থীদের অভিযোগ ছিল- ভোটকেন্দ্র আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? 

শাহাদাত হোসেন : ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর। প্রার্থীরাই নিজ নিজ পক্ষে এজেন্ট দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ দলের এজেন্ট দেবে। কিন্তু যে ক’জন মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাদের অনেকেই সব কেন্দ্রে এজেন্টই দিতে পারেননি। 

ব্রেকিংনিউজ : যে নির্বাচনে গড়ে ৩০ শতাংশের কম ভোট কাস্ট হয় সেই নির্বাচন নিয়ে জনমনে অনাস্থা তৈরি হয়। সেই অর্থে ঢাকা সিটি নির্বাচনকেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যায় না। একজন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এ সমস্যা কিভাবে সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন?

শাহাদাত হোসেন : ভোটের শতাংশ হার খুবই কম ছিল। তবে এটা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।  রাজনৈতিকভাবে এটা সমাধান করতে হবে। কেন ভোটে উ‌‌ৎসাহ হারাচ্ছে মানুষ এ বিষয়ে আমরা গবেষণা করছি। আমরা কিন্তু বসে নেই।

ব্রেকিংনিউজ : ইভিএম পদ্ধতিতে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? 

শাহাদাত হোসেন : আমরা (নির্বাচন কমিশন) আরও চেষ্টা করবো নির্বাচন সুন্দর করার জন্য। প্রশিক্ষণের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ইভিএম প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জনগণকে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।   

ব্রেকিংনিউজ : আপনাকে ধন্যবাদ।

শাহাদাত হোসেন : আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজকেও।

ব্রেকিংনিউজ/এসআই/এমআর

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি