সাহসী ও সচেতন মেয়েরাই সাংবাদিক: সাজেদা হক

মাইদুল ইসালাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ আপডেট: ০৯:৩৭

সাহসী ও সচেতন মেয়েরাই সাংবাদিক: সাজেদা হক

সাজেদা হক, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন নিউজপোর্টাল দেশইনফো.কম.বিডি এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি একুশে টেলিভিশন, বৈশাখী টেলিভিশন, যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি এর মুখোমুখি হন সাজেদা হক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাইদুল ইসলাম।

ব্রেকিংনিউজ: সাহস নিয়ে নারীরা সাংবাদিকতায় এগিয়ে এলেও নানা বাধার মুখে অনেকেই টিকতে পারছেন না। কেন?

সাজেদা হক: টিকতে পারছেন না- কথাটা ঠিক এমন না। বলতে পারেন সাংবাদিকতায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কম। আপনি খেয়াল করে দেখবেন যারা সাংবাদিকতায় আছেন তারা বেশ দাপটের সাথেই আছেন, ভালো করছেন এবং টিকে আছেন। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে মেয়েদের কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা। শুধু সাংবাদিকতাতেই নয়, সব পেশাতেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কাজের প্রতি বেশি একনিষ্ঠ। আর সাংবাদিকতার কথা যদি বলেন সে হোক বার্তাকক্ষ কিংবা রিপোর্টিং- সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা তাদের কাজটা খুব মনযোগ দিয়ে করেন। তাই দিন দিন সাংবাদিকতায় মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছেও। প্রত্যেকটা হাউজে আগে নারী সাংবাদিক ছিল না বললেই চলে। এখন কিন্তু সেখানে ৮ থেকে ১০ জন করে নারী সাংবাদিক পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছেন। নারীদের সংখ্যা বাড়ছে, কমছে না। 

ব্রেকিংনিউজ: নারী সাংবাদিকতায় ঝুঁকিটা কেমন?

সাজেদা হক: শুধু সাংবাদিকতার কথা বলছেন কেন? ঝুঁকি আছে সব পেশাতেই। আর সাংবাদিকতায় ঝুঁকি শুধু মেয়ে নয়, ছেলেদেরও অনেক। এখানে যদি পেশাগত ঝুঁকির কথা বলেন তাহলে আপনি নারী-পুরুষ আলাদা করতে পারবেন না। আর সাংবাদিকতার সাথে যেসব মেয়েরা যুক্ত হন আমি মনে করি তারা আসলেই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। কারণ এটি আসলেই একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সাধারণ মানসিকতায় বেড়ে উঠা একজন মেয়ে প্রথমেই শিক্ষক হতে চান, এরপর পেশা হিসেবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ব্যাংকিং খাতকে বেছে নিতে পছন্দ করেন। কিন্তু যারা একটু সাহসী আর সচেতন, চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন, জানতে চান-জানাতে চান সাধারণ অর্থে তারাই পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বেছে নেন।   

ব্রেকিংনিউজ: এ পেশায় নারীদের প্রতিবন্ধকতাগুলো কি এবং তারা সেটা কিভাবে সামাল দেন? 

সাজেদা হক: পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যেসব সমস্যা সাধারণ নারীদের জন্য অপেক্ষা করে সাংবাদিকতা পেশাটাও এর ব্যতিক্রম নয়। কারণ এখন পর্যন্ত আমাদের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে/নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুরুষরা। শুধু নেতৃত্বই নয় সিনিয়রদের একটা বড় অংশই পুরুষ। সঙ্গত কারণেই তাদের কেউ কেউ যখন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা দিয়ে পরিচালিত হন, তখন সমস্যা হয়। তবে আশার কথা হলো এই সংখ্যাটা কম। আর মেয়েরাও এখন বেশ সাহসী, প্রতিবাদ করতে শিখেছেন। করছেনও। 

আর শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে শিখেছেন নারীরা। যারা ব্যতিক্রম, যারা ভাবেন সাংবাদিকতায় এসে ভুল করেছি, তাদের আসলে পেশাতে যুক্ত হওয়ার আগেই এসব বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত। মানসিকভাবে প্রস্তুত না হয়েই যারা সাংবাদিকতায় আসেন কেবল তারাই ঝরে যান, সেটা ছেলে হোক কিংবা মেয়ে। আমি মনে করি মেয়েরা খুব আগ্রহের সাথে সাংবাদিকতায় আসছে এবং তারা সব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে খুব ভাল করছে। দিন দিন এ সংখ্যাটা বাড়ছে, বাড়বে। 

ব্রেকিংনিউজ: এদেশে নারী সাংবাদিকতার শুরু পঞ্চাশের দশকে। তখন লায়লা সামাদ, রাজিয়া খান আমিন, ফয়েজা হক, মাফরুহা চৌধুরী, অনেকই নিজের একটা অবস্থান সৃষ্টি করেছিল। গত সাত দশকেও সংবাদমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়েনি। কেন?

সাজেদা হক: নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। আপনি যদি খেয়াল করেন দেখবেন রাশেদা কামাল, মনতাজ বিলকিস বানু, নাসিমুন আরা হক মিনু, দিল মনোয়ারা মনু, ফরিদা ইয়াসমিন, তাসমিমা হক ওনারাও কিন্তু অগ্রজদের দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছেন। একটা জায়গায় থেকে জ্যান্টেল সাংবাদিকতাটা করে গেছেন। হাল আমলে টেলিভেশন সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। এসময়ে মুন্নী সাহা, শাহনাজ মুন্নী, শারমীন রিজভী, ফারজানা রূপা, নাজনীন মুন্নীরা বেশ ভালো করছেন। পরিবর্তন আসছে। আমি মনে করি আগামী দশ বছর পর মেয়েরাই সাংবাদিকতায় নেতৃত্ব দেবে। আগামীতে আরও বাড়বে। 

ব্রেকিংনিউজ: সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে নারী নেতৃত্ব কতটুকু এবং তাদের অধিকার আদায়ে কতটা সোচ্চার?

সাজেদা হক: সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে তুলনামূলকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বা উপস্থিতি অনেক কম। ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের নারী সাধারণ সম্পাদক পেলাম। অন্য সংগঠনগুলোতেও নারী প্রতিনিধিত্ব কম। আর যারাও কাজ করছে তারাও অধিকার নিয়ে কতটা বলতে পারছেন বা বলার সুযোগ আছে সেটা নিয়েও আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এ জায়গাগুলোতে নারীদের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করি আমি।  

ব্রেকিংনিউজ: নতুনদের জন্য আপনার বার্তা কী?

সাজেদা হক: সাংবাদিকতা একটি সম্ভাবনাময় ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এখানে সময়ের নির্দিষ্টতা নেই। কেউ যদি মনে করে আমি সাংবাদিকতা করতে চাই, তাহলে সবদিক জেনেশুনে বুঝেই যেন পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। আসার পর যেন না বলেন এখানে অনেক কাজ, অনেক সময় দিতে হয়, আমার পক্ষে সম্ভব না। আসার পর চিন্তা করার দরকার নেই। আসার আগে চিন্তা করে নেয়াটাই ভালো।

যেহেতু এটা সম্ভাবনাময় পেশা ও সম্মানজনক সেকারণে আগামীতে নারীরাই সাংবাদিকতায় নেতৃত্ব দেবে-এটা আমার বিশ্বাস। আর এটার জন্য বেশিদিন আর অপেক্ষা করতে হবে না। কিছুদিন পর যখন প্রতিষ্ঠানগুলো নারী সাংবাদিকরা নেতৃত্ব দেয়া শুরু করবে তখন নারীদের উপস্থিতিও বেড়ে যাবে বলে আমি মনে করি।  
                                          
ব্রেকিংনিউজ: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। 

সাজেদা হক: কথা বলার এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়ার জন্য আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি পরিবারকেও ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি