চা-ওয়ালা থেকে ‘ঢাকার মোদী’ তিনি

রাহাত ‍হুসাইন
৩০ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ আপডেট: ০১:০১

চা-ওয়ালা থেকে ‘ঢাকার মোদী’ তিনি

ভারত-পাকিস্তানের পর এবার ঢাকায় মিললো মোদীর সন্ধান। কি আর্শ্চয হচ্ছেন? বলছি রাজধানীর পল্টনের ফুটপাতের চা-ওয়ালা আরমান হোসেন পলাশের কথা। ২৭ বছর বয়সী এ যুবক চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তিনি রাজনীতি সচেতন। তবে সরকার বা বিরোধী কোনও দল নয়, নিজেই তৈরি করেছেন ‘বাংলাদেশ গণঐক্য’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে রাজনীতির মাঠে সোচ্ছারও রয়েছে তার সংগঠন। ২০১৫ সালে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে পলাশ প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাংলাদেশ গণঐক্য’।
 
নিজ সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ ও মানববন্ধনে নিয়মিতই তাকে পাওয়া যায়।

চায়ের দোকানি হয়েও তিনি রাজনীতি সংশ্লিষ্ট হয়ে উঠায় অনেকেই অবাক। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে প্রত্যেকের উপস্থিতি প্রয়োজন বলে মনে করেন পলাশ।
 
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একসময় চা-ওয়ালা ছিলেন। কৈশোরেই মোদীর অনেকটা সময় কেটেছে রেলস্টেশনে চা বিক্রি করে। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন এক চা-ওয়ালা। এর পর তাকে ‘পাকিস্তানের মোদী’ নামে আখ্যা দেন অনেকেই। তার নাম গুলজাফর খান।
 
আরমান হোসেন পলাশের গ্রামের বাড়ী খুলনা জেলার খালিশপুর। ৭ ভাইবোনের মধ্যে পলাশ ৫ম। বাবা মো. গোলাম  মোস্তফা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী। পলাশ পড়ালেখা করেছেন। গাজীপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন তিনি।
 
বর্তমানে পরিবার নিয়ে থাকেন গাজীপুরে। সেখান থেকেই প্রতিদিন ভোরে চলে আসেন পুরানা পল্টন। প্রতিদিনের একটাই রুটিন। আর সেই রুটিন অনুযায়ী কাজ করেন তিনি। পল্টন এসে তার প্রথম কাজ দোকান খোলা। দোকান সাজানো হয়ে গেছে পত্রিকা পড়ে দেশের খোঁজখবর নেন নিয়মিত।
 
চা-স্টলে কাজ করতে করতেই সম্প্রতি ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র কাছে তুলে ধরেন তার রাজনীতিতে আসার গল্প এবং পরিকল্পনা। ব্রেকিংনিউজ.কম.বিড’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইনের সঙ্গে আড্ডা-আলাপনে আরমান হোসেন পলাশের সেই অজানা কথাগুলোই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।
 
ব্রেকিংনিউজ : রাজনীতিতে আসার কারণ কি?
 
পলাশ : গণতন্ত্রিক দেশে সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আমরা যে যার অবস্থান থেকে রাজনীতি করতে পারি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখনও দুর্নীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘুরছে।  আমরা তরুণ প্রজন্ম, আমরা দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি চাই। আমার সুশাসন চাই। আমরা এখনও দুর্নীতিমুক্ত দেশ পাইনি। দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও সুশাসনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমার রাজনৈতিক দল গঠন। রাজনীতিতে এসে অনেকেই নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।  তবে দেশকে সমৃদ্ধ করছে না। দেশকে সমৃদ্ধশালী করতেই রাজনীতি শুরু করেছি।
 
ব্রেকিংনিউজ : কার অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে আসলেন?
 
পলাশ : ভারতে আন্না হাজারী হচ্ছেন আমার অনুপ্ররণা। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন। আমিও আমার তৃণমূল পর্যায়ে থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। পল্টন থেকে শুরু করা আমার এ রাজনীতি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করবো।
 
ব্রেকিংনিউজ : আন্না হাজারীকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেয়ার কারণ কি?
 
পলাশ : আমরা দেখেছি আন্না হাজারী যে কোনও অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। পুরো এশিয়ায় তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি যে কোনও অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও দল ও গোত্রের সহযোগিতা ছাড়াই আন্দোলন গড়ে তুলে সফল হয়েছেন বহুবার। তিনি আমাদেরকে একা একা আন্দোলন গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছেন।
 
ব্রেকিংনিউজ : আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মত বড় দলে যোগ না দিয়ে পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের কারণ ও উদ্দেশ্য কি?
 
পলাশ : আমি শুরুতেই বলেছি, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি।  যারাই ক্ষমতায় এসেছে দুর্নীতি করেছে। যে সকল তরুণ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে রাজনীতিতে আসতে চায় তাদের জন্য আমাদের এই প্লাটফর্ম। আমরা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।
 
ব্রেকিংনিউজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে ‘গণঐক্য’?
 
পলাশ : আমরা চাই সহিংসতা মুক্ত, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ একটি নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কয়েকটি নির্বাচনে দেখেছি। নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের সংখালঘুদের ওপর ব্যাপক হামলা সহিংসতা চালানো হয়। আমরা চাই সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করুক। আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। যে সরকারই ক্ষমতায় আসবে তারা যেন গণতান্ত্রিক পন্থায় দেশ পরিচালনা করে।
 
ব্রেকিংনিউজ : চায়ের দোকান থেকে রাজনীতির মাঠে পা রেখে কতটুকু সফলতা প্রত্যাশা করছেন?
 
পলাশ : রাজনীতিতে সফলতা বললে আমরা কতটুকু দেশকে দিতে পারলাম এটা সবচেয় বড় বিষয়। রাজনীতি করে আমরা কি পেলাম সেটা মুখ্য নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। কে কি পেলো সেটা দেখার বিষয় না।
 
পলাশের কাছে শেষ প্রশ্ন ছিলো ভারতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসময় চা বিক্রেতা ছিলেন। তাঁকে ফলো করেন কি না?
 
উত্তরে পলাশ বলেন, ‘না, তাঁকে ফলো করি না। তবে মোদীকে সম্মান জানাই। তিনি তাঁর নিজ যোগ্যতায় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। আশা করি আমরাও আমাদের যোগ্যতায় উঠে আসবো।’
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি