অর্থপাচার-টেন্ডারবাজি: বাবর-রুবেল-বরকতসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৯:১৯ আপডেট: ০৯:৫৬

অর্থপাচার-টেন্ডারবাজি: বাবর-রুবেল-বরকতসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বহুল আলোচিত ২ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতি পাওয়া সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল এবং সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতাশেম হোসেন বাবরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। 

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খোকন রাজাকারের আপন ভাগনে ফরিদপুরের দুই ভাই বরকত ও রুবেল। তাদের খালু যুদ্ধাপরাধ মামলার আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাচ্চু রাজাকার। স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন হওয়ার পরেও বরকত বাগিয়ে নেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। আর রুবেল ভাইয়ের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাংবাদিক না হয়েও জোর করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ দখলে নেন।

একপর্যায়ে সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই ও ফরিদপুর সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর ও যুবলীগ নেতা এ এইচ এম ফুয়াদের মাধ্যমে বলয় সৃষ্টি করে গত এক যুগ ফরিদপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন বরকত-রুবেল। তাদের ঈশারায় পুরো জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। 

ক্ষমতার আশপাশে থেকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেন তারা। এই পরিকল্পনায় সফল হওয়ার পরই তারা টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে কমিশন নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর এবং এ এইচ এম ফুয়াদ। 

এদের দুজনের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পরামর্শে সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি করে অবৈধভাবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হন তারা। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন।

চার্জশিটে অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন- এ এইচ এম ফুয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আশিকুর রহমান ওরফে ফারহান, যুবলীগের নেতা ফাহান বিন ওয়াজেদ ফাইন ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড ওরফে ডেভিড, মোহাম্মদ আলী মিনার ও মো. তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম। 

এই ১০ আসামির বাইরে আরও ৪১ জনের বিরুদ্ধে এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সম্পূরক চার্জশিটে আসামি করা হবে বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে মামলার নথি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠানো হবে।’

তদন্ত সূত্র জানায়, ৭২ পৃষ্ঠা চার্জশিটে ৪৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অপর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের ৪২ জন সহযোগীর মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছে। ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে সূত্র জানায়।

২ হাজার কোটি টাকার অবৈধ অর্থ ও সম্পদ আয় এবং পাচারের অভিযোগে সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত বছরের ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী-২০১৫-এর ৪ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। এছাড়াও এজাহারে মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখলের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। বিশাল অংকের অবৈধ টাকার বড় একটা অংশ হুন্ডির মাধ্যমে তারা বিদেশে পাচার করেন।

মানি লন্ডারিং ছাড়াও রুবেল-বরকতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, হত্যা, চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগে আরও অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে তাদের।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলায় করা মামলায় গত বছরের ৭ জুন রুবেল ও বরকতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

দুই দফায় রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় দুই ভাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। 

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এক আদেশে বরকত-রুবেলের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি এবং তাদের মালিকানাধীন ৫৫টি বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপস কুমার পাল জানান, অর্থপাচার মামলায় বরকত ও তার ভাই রুবেলসহ ৫ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ১৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং তাদের মালিকানাধীন ৫৫টি বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি