চাকরিচ্যুতির ষড়যন্ত্র: এসএ টিভি’র ফয়সালকে বের করে দিলো সাংবাদিকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:১৭ আপডেট: ০৪:২০

চাকরিচ্যুতির ষড়যন্ত্র: এসএ টিভি’র ফয়সালকে বের করে দিলো সাংবাদিকরা

শতাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরিচ্যুত করার চক্রান্তসহ প্রথম ধাপে ১০ জনকে ছাঁটাইয়ের জের ধরে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টিভি’র কার্যালয় থেকে হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালকে বের করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। 

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে টেলিভিশনটির সবগুলো বিভাগের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তাকে এসএটিভি কার্যালয় ছেড়ে যেতে বাধ্য করেন। এসময় তারা হেড অব নিউজ ফয়সালের কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধেও শ্লোগান দেন। 

পরে এসএটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ বিক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তিনি বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান না করে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

অবশ্য ক’দিন আগ থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের সময় দেননি। 

এরইমধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় সালাহউদ্দিন আহমেদ তার গুলশানের বাসভবনে এসএ টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খ ম হারুন, হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল এবং ভারপ্রাপ্ত হেড অব প্রোগ্রাম আশরাফ-উজ-জামান এবং প্রোডিউসার কামরুজ্জামান (রঞ্জু)সহ কয়েকজনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন এবং সেখানে ফয়সালের পরামর্শ অনুযায়ী নিউজ কমানো এবং দিনব্যাপী সিনেমা চালানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়। 

এরআগে প্রতিষ্ঠানটির ১৩০ জনকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা গ্রহণসহ তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দেন হেড অব নিউজ। এরই ধারাবাহিকতায় এফপিসি পরিবর্তন এবং কর্মী ছাঁটাই পর্ব শুরু হয়। প্রথম দফায় প্রোগ্রামের ১০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রোগ্রাম হেড জিনাত জেরিন আলতাফকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছে। 

এদিকে এসএ টিভির কর্মীদের দাবি, সব পরিকল্পনার মূলেই হেড অব নিউজ। তিনি বার্তাকক্ষের ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে ছাঁটাই-চক্রান্ত এবং হয়রানি শুরু করায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সেইসঙ্গে কয়েকদিন ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তারা বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি সময় দিয়েও পরে তা বাতিল করেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। 

এরইমাঝে হেড অব নিউজের সব চক্রান্ত প্রকাশ পাওয়াসহ এমডির গুলশানের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের খবরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। সারাদিন অপেক্ষার পরও এমডির সাক্ষাত না পাওয়া গণমাধ্যমকর্মীরা অপেক্ষা করতে থাকেন। 

এক পর্যায়ে রাত পৌনে ১০টার দিকে এমডি এবং হেড অব নিউজ এসএটিভি কার্যালয়ে আসেন। এরপর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা হেড অব নিউজের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তখনই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে সব চক্রান্ত এবং চাকরিচ্যুত করার মূলে ফয়সালকে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠানটির সংবাদকর্মীরা। 

এসময় হেড অব নিউজকে এসএটিভিতে আর দেখতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দেন তারা। তখনই তাকে বের হয়ে যেতে বলেন তারা। কিন্তু তিনি সময় চেয়ে কালক্ষেপণের চেষ্টা করলে সবাই জোরপূর্বক তাকে নিউজরুম থেকে টেনে নিয়ে গেটের বাইরে বের করে দিয়ে আসেন। এসময় সেখানে আসেন গুলশান থানার পুলিশ সদস্যরাও। তারা এসে গণমাধ্যমকর্মী এবং এমডির সঙ্গে কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীরা দাবি-দাওয়া আদায়ে সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরা ছাড়াও হেড অব নিউজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। 

সেখানে এমডি সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধান করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

এসএটিভিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি যেভাবে শুরু : বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া। এরপরও কাজ করছিলেন এসএটিভির কর্মীরা। এরইমাঝে চলতি মাসের আগস্টে হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল যোগদানের পর নানা চক্রান্ত শুরু করায় নিউজরুমের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। এরআগে ফয়সাল দুর্নীতি আর নানা অপকর্ম করায় ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট এসএটিভি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। সেই সময় যারা বিভিন্নভাবে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করেছিল। তাদের এসএটিভি থেকে সরিয়ে দিতে টার্গেট করেন তিনি। 

এরইমধ্যে গেল ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার নিউজে ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের একটি প্যাকেজ নিউজে একজন ক্লিনারকে দিয়ে ভয়েজ দেয়ার নির্দেশ দেন হেড অব নিউজ। এই ঘটনা নিয়ে রিপোর্টাররা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। নিউজরুমে রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান, আরিফ হোসাইন এবং মাহমুদুল হকসহ কয়েকজন ভিডিও এডিটর ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক এবং হেড অব নিউজকে নোংরা এবং খারাপ লোক বলে মন্তব্য করে। 

এরপর হেড অব নিউজের বিরুদ্ধে ক্লিনারের সঙ্গে সখ্যতার কাহিনি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি সেই ঘটনা আড়াল করতে অফিসে না আসাসহ অসহযোগিতার অভিযোগ এনে হাসান, আরিফ, মাহমুদ, সাদেক, সাকি, মোহসীন এবং মিলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এদের মধ্যে মিলন এবং সাকি হেড অব নিউজকে ভরা মিটিংয়ে তিরস্কার করেছিলেন তাদের জুনিয়র ফারজানা শোভাকে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করানোর কারণে। হেড অব নিউজ নারায়ণগঞ্জ থেকে নিউজ করা বাবদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, সেই ঘটনা সাদেক অফিসকে জানিয়েছিলেন। মোহসিন অফিসকে এসএমএস দিয়েছিল, তার মা অসুস্থ অফিসে আসতে পারবে না জানিয়ে। এরপরও হেড অব নিউজ পুরনো প্রতিশোধ নিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা নেন। শেষ পর্যন্ত তাদের চাকরিচ্যুত করা হলেও সাংবাদিক ইউনিয়নের কর্মসূচির কারণে আটকে যায়। 

এরপর নিউজরুমসহ অন্য বিভাগেরও ১৩০ জনকে চাকরিচ্যুত করার নতুন কৌশল নেন হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল। এরমধ্যে প্রোগ্রামের ক্যামেরাপার্সন ও প্রোডিউসারসহ ১০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২২ নভেম্বর কোলকাতা টেস্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সংবাদটির জন্য অফিসের অনুমতি নিয়ে সেখানে যান স্পোর্টস ডেস্কের আরিফ হোসাইন। আর অফিস থেকে স্ক্রিপ্ট লিখে ভয়েজ দেন নুরউদ্দিন। প্যানেলে নিউজটির তত্ত্বাবধান করেন মাহমুদুল হাসান। 

এই নিউজের জন্য এই তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এটিও তাদের চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ধরে নেন সংবাদকর্মীরা। এসব ঘটনা নিয়েই এসএটিভির সব কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালকে অফিস থেকে বের করে দেন।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি