হুমকির মুখে ময়মনসিংহের সুতিয়া নদী

জেলা প্রতিনিধি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:৫৭ আপডেট: ০২:১৪

breakingnews

সুতিয়া নদী, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে সারা বছর নৌকা চলত, মাছ পাওয়া যেত, থাকত টলটলা পানি। কিন্তু এখন শুধু বর্ষার দুই–তিন মাস পানি থাকে। বাকি সময় পানি শুকিয়ে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন ধান চাষ করেন, নয়তো কচুরিপানায় ভরা থাকে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদী দেখিয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রবীণ তোতা মিয়া।
 
শুধু সুতিয়া নদী নয়, ময়মনসিংহের কাঁচামাটিয়া, খীরু, কংস, নরসুন্দাসহ ছোট–বড় ৩৮টি নদীরই প্রায় একই দশা। কোনোটা নাব্যতা হারিয়ে, কোনোটা দূষণের কবলে, আবার কোনোটা দখলের কারণে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। এছাড়াও বছরের পর বছর পলি জমে নদীগুলো প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
 
নদীগুলোর এমন রুগ্ন দশায় সাধারণ জনগণের জীবনমানেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ফসল চাষে ব্যাপক ভূমিকা রাখত এই নদীগুলো। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে কৃষকদের। মিঠাপানির মাছও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে পানির অভাবে। অথচ এই নদীগুলো অনেকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম ছিল। স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলেও অনেক সুবিধা ছিল। কিন্তু এখন আর সে উপায় নেই।
 
ত্রিশালে সুতিয়া নদী এবং ময়মনসিংহ শহরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে বেশ কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে নদী দখল হতে দেখা গেছে। তবু এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে সাধারণ জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
হারিয়ে যেতে থাকা এই নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য খননকাজ শুরু করে দখল ও দূষণরোধে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরী। আর পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমেদ নদীগুলোর এমন দুর্দশার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন।
 
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেছেন, নাব্যতা–সংকট দূরীকরণে ইতোমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ শুরু হয়েছে। জেলার অন্য নদীগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের শাখানদী। তাই ওই নদীগুলো ব্রহ্মপুত্রের পানিপ্রবাহের ওপরই টিকে থাকত। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখে পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছিল। তাই এখন খনন করে নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অন্য নদীগুলোতেও পানিপ্রবাহ আগের মতো বৃদ্ধি পাবে। আর নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
 Monetized by Galaxysoft
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি