​আচরণবিধি ভঙ্গে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে: সুজন

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৭

​আচরণবিধি ভঙ্গে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে: সুজন

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কার প্রকাশ করেছে বিশিষ্ট নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

সংগঠনটি মনে করে, ‘রাতের আধারে ক্যাম্প ভেঙে দেয়া, নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্য দলের প্রার্থীর ওপর হামলা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে এবং তেমন কিছু ঘটলে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করবে।’

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজধানীর এই দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রাক নির্বাচনী প্রার্থী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রার্থী গতবারের তুলনায় বেশি। এমনটা জানিয়েছে সুজন’র দাবি, ‘নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা জনপ্রতিনিধিদের জনসেবামূলক ভূমিকার পরিবর্তে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিমুলক প্রবণতার প্রসার ঘটাতে পারে। এটা বিরাজনীতিকরণের ধারা শক্তিশালী হওয়ারও একটা লক্ষণ। বিশ্লেষণ অনুযায়ী- ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকলেও দক্ষিণের মেয়রদের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে বর্তমানেও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল।’

বিশ্লেষণ হাজির করার আগে সুজন বলে, ‘নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থীগণ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা আকারে ৭ ধরনের তথ্য বিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করেছেন। আমরা সুজনের উদ্যোগে প্রার্থীগণ প্রদত্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় জনগণের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্রা্থীদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে।’

ব্যবসায়ী বেড়েছে
ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (অর্ধেক-৫০%) ব্যবসায়ী। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তাবিথ আউয়াল ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান। অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক চিকিৎসক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ শিক্ষক এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আনিসুর রহমান দেওয়ান সমাজসেবক।  ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর চার পঞমাংশেরও অধিকের (২০৩ জন বা ৮১.৮৫%) পেশা ব্যবসা। ৯ জন (৩,৬৩%) তাদের পেশার কথা উল্লেখ করেননি।’

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ‘২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে (৬৭.২০%-এর স্থলে ৭২.৮১%)। দক্ষিণের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে (৭১.২৮%-এর স্থলে ৩,৫৯%)। তারা বলছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নির্বাচন করার প্রবনতা বাড়ছে। যা একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার রূপান্তর ঘটাতে পারে; যার ফলাফল অবশ্যই নেতিবাচক।’

শিক্ষাগত যোগ্যতা: মেয়রের বেড়েছে
ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই (৮৩.৩৩%) উচ্চশিক্ষিত। এদের মধ্যে ২ জনের (৩৩.৩৩%) শিক্ষাগত যাগ্যতা স্নাতকোত্তর ও ৩ জনের (৫০%) স্নাতক। তবে ১ জন (১৬.৬৭%) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান।

ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর (১৫৬ জন বা ৬২.৯০%) শিক্ষাগত যােগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধুমাত্র এসএসসি'র নিচেই ১২৩ জন (৪৯.৫০%)।

ঢাকা উত্তরের সর্বমোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২০৩ জন বা ৬১.৩২%) শিক্ষাগত যাগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধুমাত্র এসএসসি’র নিচে ১৫৬ জন (৪৭.১৩%)।

ঢাকা উত্তরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় একদিকে স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর হার বেড়েছে (৫৯,৪০% এর স্থলে ৬১.৩২%), অপরদিকে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর হার হ্রাস পেয়েছে (২৭.৪১% এর স্থলে ২৫.২৭%)।

ঢাকা দক্ষিণের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (৪২.৮৬%) উচ্চশিক্ক্ষিত। এদের মধ্যে ২ জনের (২৮.৫৭%) শিক্ষাগত যােগ্যতা স্নাতকোন্ত ও ১ আগর (১৪.২৯ ) স্নাতক। তবে ৩ জন (৪২.৮৬%) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

ঢাকা দক্ষিণের সর্বমোট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২৬৬ জন বা ৬৫.০৩%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। বিশ্লেষণে দেখা যায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতের হার সমান (৪২.৮৬%) হলেও, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে স্বল্পশিক্ষিতের হার অনেক বেশি।

২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, স্বল্পশিক্ষিতের হার সমান রয়েছে (৬৬.৭৪)। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে সামান্য কিছু অবনতি হয়েছে (১৯৮৩% এর হলে বর্তমানে ১৯.৩১%)।

প্রার্থীদের মামলার হিসেব:
ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হকের বিরুদ্ধে অতীতে একটি মামলা ছিল, যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে কখনও মামলা দায়ের হয়নি। ঢাকা উত্তরের সর্বমোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের (২৯.৯১%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৪ জনের (১৩.২৯%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২১ জনের আছে বা ছিল।

ঢাকা দক্ষিণের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের (২৮.৫৭%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩ জনের (৪২.৮৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এ ৪ ২৯%) উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ঢাকা দক্ষিণের সর্বমােট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৯ জনের (২৬.৬৫%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৫০ জনের (১২.২২%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৬ জনের (৬.৩৬%) উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল।

আচরণবিধি ভঙ্গ প্রসঙ্গে
আচরণবিধি বিষয়ে সুজনের পর্যবেক্ষণ বলছে, মনোনয়ন দাখিলের দিন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মেয়র প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করে আসছেন। তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে মিছিল করে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পরবর্তীতে কোন কোন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিছিল করা, নির্ধারিত সময়ে আগে বা পরে শহযন্ত্র ব্যবহার, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচার, গাড়িবহর ব্যবহার, মোটরসাইকেলের বহুল ব্যবহার, রাতের আধারে ক্যাম্প ভেঙে দেয়া, নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্য দলের প্রার্থীর ওপর হামলা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে এবং তেমন কিছু ঘটলে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করবে।  

ইভিএম নিয়ে বিতর্ক আছে
আসন্ন সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু থেকেই বিতর্ক আছে উল্লেখ করে সুজন বলে, ‘সকল রাজনৈতিক দল একমত না হলেও, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ইডিএম ব্যবহারে বন্ধপরিকর। আমরা মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথম বাধা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। নির্বাচন কমিশনের ওপর যদি ভোটারদের আস্থা থাকতো, তবে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠতো না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচএস/ এসএ 

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
 Monetized by Galaxysoft
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি