দেশ ‘পুরোপুরি লকডাউন’ চান ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক

স্টাফ করেসপন্ট
৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৮:৫০ আপডেট: ১১:৪৯

দেশ ‘পুরোপুরি লকডাউন’ চান ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ৬৬ দিন পর সাধাণ ছুটি না বাড়িয়ে অঘোষিত লডকাউন তুলে নিয়েছে সরকার। লডডাউন তোলার পর থেকেই করোনায় রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে আক্রান্ত ও মৃত্যু হচ্ছে বাংলাদেশে। এমন পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক দাবি করে পুরো দেশকে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

বুধবার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে  নাগরিক সমাজের ৩৪৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ দাবি করেন। 

বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, 'কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী গত ৮ মার্চ চিহ্নিত হওয়ার পর সংক্রমণরোধে যথাযথ লকডাউনের পরিবর্তে এখন পর্যন্ত ছয় দফায় রাষ্ট্রীয়ভাবে 'সাধারণ ছুটি' ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পোশাক কারখানা খুলে দিলে রোগীর সংখ্যা দ্রুতই বাড়তে থাকে। এক মাসের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আবারো মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদ উপলক্ষে দোকান-পাট, কারখানা খোলা এবং অন্যান্য ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেও রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এখন পরিস্থিতি আরো বিপদজনক হয়ে উঠেছে। তাই এ রকম পরিস্থিতিতে মহামারি মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পরামর্শ ছিল আরো বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। তাদের পরামর্শকে বিবেচনা না করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল করার সিদ্ধান্ত খুবই আত্মঘাতী হবে বলে আমরা মনে করছি।'

বিবৃতিতে বলা হয়, বিরাজমান করোনা পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো রকম সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল ছাড়া সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিসহ দীর্ঘমেয়াদে জীবন ও জীবিকার সংকটে শুধু দরিদ্র আর সাধারণ নাগরিকরাই পড়বেন না বরং সার্বিকভাবে সকলকেই মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিবে। এতে দেখা যাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ শুরু হয়ে গেলেও অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবেও আমরা বিচ্ছিন্ন থাকবো। এতে এই করোনা পরবর্তী অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিও হারাবে।

বিবৃতিদারা বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেন। এর মধ্যে আছে-

১) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত অতি জরুরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জরুরি জনসেবাভিত্তিক কর্মকাণ্ড বাদে সমস্ত অফিস আদালত ও শ্রমঘন কারখানা বন্ধ রাখা হোক। খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি পণ্য পরিবহন বাদে সকল আন্তঃজেলা পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ করা হোক।

২) লকডাউন কার্যকর করার প্রধান শর্ত হিসেবে সকল কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্ত কল কারখানার শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যেকোন ধরণের ছাটাই বন্ধ রাখতে হবে। একই সাথে লকডাউন তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা জনপরিসরে দ্রুতই প্রকাশ করা হোক।

৩) দেশের সকল পর্যায়ে টেস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো হোক। প্রতিটি জেলার করোনা হাসপাতালে আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হোক। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া প্রতিটি রোগীর নমুনা শুরুতে সংগ্রহ করে দ্রুত নিকটবর্তী ল্যাবে পাঠানো হোক। সংগৃহীত নমুনাগুলোর জট কমাতে দৈনিক টেস্টের সক্ষমতা বাড়ানো হোক, নমুনা শনাক্তকরণে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমিয়ে আনা হোক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গবেষণাগারের মধ্যে সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করোনা টেস্ট সেন্টার স্থাপন করা হোক। উপরন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ব্যবহার করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হোক।

৪) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহজলভ্য কিটের ট্রায়ালের ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। ট্রায়াল সফল হলে এই কিটের দেশব্যাপী ব্যাপক ব্যবহারের দ্রুত অনুমোদন দেয়া হোক।

৫। ক্রমবর্ধমান রোগী সংখ্যার প্রেক্ষাপটে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর করোনা ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হোক। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের করোনা হাসপাতালগুলোতে বা করোনা ওয়ার্ডে প্রতিটি রোগীর জন্যে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সুবিধা নিশ্চিত করে ইনডোর স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম, কনভেনশন সেন্টারে অস্থায়ি হাসপাতাল দ্রুত গড়ে তোলা হোক। সেই সাথে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অন্তত ৫০ শতাংশ শয্যা করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হোক। বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সায়েমা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন, রোবায়েত ফেরদৌস, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ রয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি