স্বাস্থ্যের ডিজির গাড়িচালক সঙ্গে রাখতেন ‘অস্ত্রসহ গানম্যান’

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:৩৫ আপডেট: ১১:৪১

স্বাস্থ্যের ডিজির গাড়িচালক সঙ্গে রাখতেন ‘অস্ত্রসহ গানম্যান’

মো. আবদুল মালেক ওরফে বাদল। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির (শিক্ষা) গাড়ি চালানোর দায়িত্ব ছিল তার। কিন্তু তিনি গাড়িটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। এছাড়াও দুটো গাড়ি অবৈধভাবে নিজের কাজে লাগাতেন। অধিদফতরে তার ক্ষমতা শুধু ড্রাইভারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কর্মকর্তারাও তাকে সমীহ করে চলতেন। শুধুমাত্র গাড়িচালকদের নিয়োগই নয়, চিকিৎসক বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের হোতাও ছিলেন আবদুল মালেক।

রাজধানীর ধানমন্ডি-উত্তরায় তার বিলাসবহুল তিনটি বাড়ি। সব কটি ৭তলা। একাধিক স্ত্রী ও সন্তানের নামে রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাট। রাজধানীর তুরাগে ছেলের নামে গড়ে তুলেছেন ডেইরি ফার্ম। সেখানে পালন করেন কোটি টাকার গবাধি পশু। নিজের এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে সঙ্গে রাখতেন ‘অস্ত্রসহ গানম্যান’। 

অধিদফতরের সাবেক ও বর্তমান মহাপরিচালকের (ডিজি) এই গাড়িচালক অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন শতকোটি টাকা। অধিদফতরে বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য, তদবির, টেন্ডারসহ সব ক্ষেত্রেই বিচরণ ছিল তার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অল্প কিছুদিনেই হয়ে যান অঢেল সম্পদের মালিক। শনিবার গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ব্রেকিংনিউজকে এসব কথা জানান।

আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদফতরে গাড়ি চালক হিসেবে যোগ দেন ১৯৮২ সালের দিকে। বর্তমানে কাগজে-কলমে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। কিন্তু ডা. এনায়েত হোসেন যে টয়োটা ভিগো (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৮-৩৯৫১) গাড়ি ব্যবহার করেন সেটির চালক হারুন নামে একজন। এর আগে এনায়েত হোসেন যখন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ছিলেন তখন তার গাড়ির চালক ছিলেন আবদুল মালেক। সেই সময় ডা. এনায়েত হোসেনের জন্য বরাদ্দ ছিল একটি সাদা পাজেরো জিপ (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-২৯৭৯)। পরবর্তী সময়ে তিনি মহাপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় নতুন গাড়ি ব্যবহার করলেও পুরনো গাড়িটি ব্যবহার করতে থাকেন আবদুল মালেক। ব্যক্তিগতভাবেই তিনি গাড়িটি বাসায় যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘সম্প্রতি র‌্যাব জানতে পারে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আব্দুল মালেক ওরফে ‘মালেক ড্রাইভার’ নামে এক ব্যক্তি অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার এই সম্পদের নিরাপত্তায় বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করেন। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তুরাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ জাল টাকা এবং ল্যাপটপ।’

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং গাড়িচালক। এ ছাড়া তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড্রাইভারদের শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একাধিক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই গাড়িচালকের ঢাকায় ২৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরাসহ কয়েকটি জায়গায় রয়েছে বিলাসবহুল ৭তলা তিনটি বাড়ি। কোটি টাকা খরচ করে ছেলের নামে রাজধানীর তুরাগে করেছেন ডেইরি ফার্ম।

আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভারের রাতারাতি এত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে তাকে কমিশন থেকে তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া তার অর্থনৈতিক বিষয়ে হিসাব দাখিলের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের এ মুখপাত্র বলেন, ‘গ্রেফতারের সময় অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মালেকের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে এবং জাল টাকা রাখার দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তুরাগ থানায় একটি মামলা করেছে ‘

সাবেক পরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি-না এমন প্রশ্নে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘আব্দুল মালেক সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন। এ ছাড়া তিনি অধিদফতরের নতুন পরিচালকের গাড়িচালক। এর বাইরে গাড়িচালক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে তার একটি আলাদা প্রভাব ছিল। এই বিষয়গুলো পুঁজি করেই মূলত তিনি বিপুল অর্থের মালিক হন।’

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল ব্রেকিংনিউজজে বলেন, ‘তিনি পেশায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলের একজন চালক। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। ১৯৮২ সালে সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে চালক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরে কর্মরত।’ 

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার মালেক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও জালনোট ব্যবসাসহ অস্ত্রের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শনপূর্বক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।’

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি