বর্ণহীন বৈশাখে উন্মাদনা নেই ইলিশে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৪:১৫

বর্ণহীন বৈশাখে উন্মাদনা নেই ইলিশে

নতুন একটি বছর য়ারে কড়া নাড়ছে। চৈতালি হাওয়ার পালে চড়ে আবারও এসেছে বৈশাখ। রাত পোহলেই পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪২৮। উৎসবের রঙিন হওয়ার একটি দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির যুথবদ্ধ উৎসব উদযাপনের একটি দিন। কিন্তু এবার যেন কোথাও কোনও ছোঁয়া নেই বৈশাখের। নেই কোনও প্রস্তুতি কিংবা আয়োজন। করোনা মহামারির কারণে গেল বছরের মতো এবারও এক বর্ণগন্ধহীন বৈশাখ এসেছে বাংলায়। মানুষের সম্মিলনের বিপরীতে সবখানে চলছে সামাজিক দূরত্ব। রবি ঠাকুরের কবিতাকে একটু প্যারোডি করে বলা যায়- ‘যা ছিল নিয়ে গেলো করোনা ভাইরাস’।  

গেল বছরের মতো এবারও বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের যেকোনও অনুষ্ঠান আয়োজন কিংবা লোকসমাগম না করতে আগেই সরকারি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও পান্তা-ইলিশ নিয়ে নেই কোনও কথার চালাচালি। সামাজিকমাধ্যমগুলোও বৈশাখি আলোচনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বাঙালি শেষ কবে টানা দুই বছর এমন ঘরে বসে বর্ষবরণ করেছে, সে হিসাব হয়তো কারোরই জানা নেই।

প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের প্রথম সকালের প্রধান অনুষঙ্গ। এছাড়াও ঢাকাসহ সারা দেশে নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামে কিংবা শহরে- খোলা মাঠে বসে মেলা। বাহারি পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। নতুন পোশাকের ঘ্রাণ গায়ে জড়িয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা কে না আসে বৈশাখি উৎসবে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে।

কিন্তু গেল বছরের মতো এবারও চিত্রটা পুরো ভিন্ন। এর বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে ইলিশের বাজারেও। রাত পোহালেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। অথচ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে অন্যান্য বছরগুলোতে এই সময়ে গোটা দেশে কয়েকগুণ বেড়ে যায় ইলিশের দাম। সোনার হরিণ হয়ে উঠা ইলিশ নিয়ে গণমাধ্যমেও খবরের ছড়াছড়ি থাকে। গেলবারের মতো এবারও এসবের কোনোটাই নেই। দাম যতই হোক, কিনতেই হবে ইলিশ- করোনায় এবার সেই উন্মাদনাও নেই মানুষের।

অন্যান্য বছর বৈশাখী উৎসব শুরু হতে না হতেই মাছের আড়তগুলোতে লাগতো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পদ্মার সুস্বাদু ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ইলিশের দামও হয়ে যেতো আকাশচুম্বি। আধা কেজি ওজনের একখানা ইলিশের দাম উঠতো ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এবার ইলিশে লাগেনি বৈশাখি হাওয়া।

রাজধানী ঢাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সংক্রমণ এড়াতে ছেলেমেয়েদের নতুন জামা কিনতে মার্কেটেও যাচ্ছেন না। যতটা সম্ভব ঘরেই থাকছেন। ইলিশ কিনতেও বাজারে যাননি। ঘরে বসেই এবারও বাংলা নববর্ষকে বরণ করবে তারা। 

পহেলা বৈশাখে দেশের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতিটা থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই চারুকলায় নানা রঙে ও ঢঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব তৈরির ধুম পড়ে। গোটা বিশ্ববিদ্যারয়েই লাগে রঙ। এবার বৈশাখ এসেছে, চারুকলায় কিছুটা ব্যস্ততাও বেড়েছে। তবে ক্যাম্পাসে বৈশাখের সেই চিরচেনা রঙিন ছোঁয়া লাগেনি। চারপাশে যেন বর্ণগন্ধহীন এক শূন্যতা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখনও গ্রামের বাড়িতে। কেউ কেউ ঢাকায় এসে মেস ভাড়া করে থাকছেন। হল খোলা না হলে ক্যাম্পাসে প্রাণ ফিরবে না। গেল বছরের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসব খুব মিস করছেন তারা।

উৎসবের দিনগুলোতে কাছের মানুষের সান্নিধ্য আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তারপরও এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা আছি সামাজিক-শারীরিক দূরত্বে। নিজেকে ও নিজের চারপাশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে সঙ্গত্যাগই এখন মূলমন্ত্র। বরং এই বৈশাখে সান্ত্বনা হিসেবে আমরা ঘরে থেকে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মতো করে অনর্গল বলে যেতে পারি- ‘সহে না সহে না আর জনতার জঘন্য মিতালী’।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি