রেল দুর্ঘটনা থামবে কবে?

মাকসুসুর রহমান
১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৭:১৮ আপডেট: ০৭:৪৪

রেল দুর্ঘটনা থামবে কবে?

বাংলাদেশে রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৯৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা-জগাতি রেললাইন স্থাপনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় রেলযুগের। তারপর কেটে গেছে বহু বছর। বিভিন্ন বাধা কাটিয়ে মানুষের সহজলভ্য যাতায়াতের ভরসায় পরিণত হয় ট্রেন যোগাযোগ। কিন্তু গত ক বছরে থামছেই না রেল দুর্ঘটনা। প্রায়ই দেশের কোথাও না কোথাও রেল দুর্ঘটনা ঘটছে। বাস্তবে রেল কর্তৃপক্ষের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে ট্রেন দুর্ঘটনা। প্রতি বছর এ হার বেড়েই চলছে।

এক সময়ে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে চলাচলের অন্যতম বাহন হিসেবে ট্রেনকে সবাই বেছে নেয়। বর্তমানে দুর্ঘটনার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেনেও ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে ক্রমেই মানুষ ট্রেন ছেড়ে অন্য বাহনের দিকে ঝুঁকছে। আর এতে রেল হারাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী। অতি দ্রুত রেল দুর্ঘটনার চলমান হার কমাতে না পারলে পরিবহন সেক্টরে শত বছরের সুনাম হারাতে পারে ট্রেন।

বিভিন্ন সময়ে ঘটা দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে রেল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়না। আবার ট্রেন চলে আগের মতোই হেলে দুলে। পুনরায় ঘটে দুর্ঘটনা। 

বিশ্লেষকদের মতে বিশ্বের সকল উন্নত দেশে কমবেশি রেল দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর পরিমাণটা বেশি। রেল দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাড়ছে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও। তাই বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রেন দুর্ঘটনা এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিরাপদ বাহনে এখন নেই দুর্ঘটনামুক্ত ভ্রমণের নিরাপত্তা। রেলেওয়ে কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে নারাজ। দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের স্বার্থে নেই বীমার ব্যবস্থা। দেশের যানবাহনের জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হলেও সরকারি এ সংস্থাটি সেটি মানছে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথা নেই। রেলের উন্নয়নে সরকার সর্বাধিক টাকা ব্যয় করলেও রেল পরিচালনা ও দুর্ঘটনা রোধে কৃর্তপক্ষের দৃশ্যমান সফলতা চোখে পড়ছে না। 

রেল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে রেল খাতের উন্নয়ন ও যাত্রী পরিবহনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রেলের উন্নয়নে সরকার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভেঙে গঠন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতে যখন প্রধান বাহন ট্রেন, বাংলাদেশ ঠিক তার বিপরীতে অবস্থান করছে।

ইতোমধ্যে সরকার কয়েক হাজার মাইল আধুনিক রেলপথ নির্মাণ করছে। যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে বিদেশ থেকে নতুন কোচ আনছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রেল পথে সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন রেল যোগাযোগ। তবুও বাড়েনি যাত্রীর সেবার কাঙ্ক্ষিত মান। নানাবিধ সমস্যার পাশাপাশি রেল দুর্ঘটনার কারণে রেলপথ ছেড়ে অন্য দিকে ঝুঁকছে যাত্রীরা ধারণা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। 

এর আগে, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সলপ স্টেশনের অদূরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী  আন্তঃনগর পদ্মা ট্রেনের সঙ্গে বিয়ের যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১০ জন মারা যান। উপজেলার সলপ স্টেশনের উত্তরের পঞ্চক্রোশী আলী আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ওই দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয় ‘অরক্ষিত রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লেভেল ক্রসিংয়ে কোন ব্যারিয়ার ছিল না। এমনকি সেখানে রেল ক্রসিংয়ে কোন পাহারাদারও ছিল না।’

বাংলাদেশের কেন এত ট্রেন দুর্ঘটনা? চালকদের কী প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে? এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী রেল চালক সালমা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, রেল চালকদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিল্ডে আসতে হয়। ফলে প্রশিক্ষণের অভাব থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, চালক সংকটের কারণে তাদের ডিউটি রোস্টার ঠিক থাকে না। কখনও ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয় চালকদের। 

রেল দুর্ঘটনার বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের নজর উন্নয়নের দিকে। কিন্তু মেরামত যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেদিকে বাজেটও কমে যাচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেল লাইন সংস্কার করা প্রয়োজন। তা ছাড়া যোগাযোগের বড় এ মাধ্যমে লোকবল ঘাটতি রয়েছে। এটা অন্য সেক্টরের মতো না।’ 

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪০৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬২ জনের।

সবশেষে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১৬ জন মারা যান ও শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ন্যারোগেজ রেলপথ অনেক আগেই বাংলাদেশ থেকে উঠে ব্রডগেজ হয়ে গেছে। এখন মেট্রোরেল উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশে। 

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি