করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশ বাজেট (পর্ব-২)

ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী
২৬ জুন ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১০:৩৪ আপডেট: ১২:৩১

করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশ বাজেট (পর্ব-২)

ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বহু বাধার মুখেও সত্য ও সংগ্রামের পথে কখনো আপস করেননি। গোটা দেশ, এমনকি গোটা পৃথিবীটাকেই যখন মহামারি করোনা ভাইরাস তছনছ করে দিচ্ছে, তখন আরও একবার করোনা জয় করে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকিতে হাসপাতালের বেডেই কেটেছে তার। এখন শরীর বেশ সাড়া দিচ্ছে। আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন। 

কিন্তু বিশ্রামে থাকার এই দিনগুলোতেও সময়কে বৃথা যেতে দেন না যিনি, তিনি এই জাফরুল্লাহ চৌধুরী। করোনামুক্ত হলেও এখনও তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পরিচর্যায় আছেন। আর ঠিক এই সময়টাতেই তার কলম গড়িয়ে নামছে করোনার অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞান। হাসপাতালেই বেডে শুয়েই লিখেছেন- “করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশে বাজেট” শীর্ষক দীর্ষ নিবন্ধ। তাঁর এই লেখায় উঠে এসেছে সমসাময়িক অনেক ভাব-ভাবনা এবং একইসঙ্গে ভবিষ্যত দূরদর্শন। ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি তিন পর্বে পুরো লিখাটি প্রকাশ করবে। যার দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশ হলো-

* পরিশোধতব্য সুদ ২০২০-২১ বাজেটে
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাপ্য বিদেশি ঋণের সুদ এবং পিপিপি (Public Private Partnership) ভর্তুকি ও দায়বদ্ধতা পরিশোধ করতে ১০০,৪১১ (এক লাখ চারশত এগার) কোটি টাকা প্রয়োজন, যা ২০২০-২১ বাজেটের মোট বরাদ্দের ১৭.৬৮%। খাদ্য, দুর্যোগ, কৃষি, পানি সম্পদ ও স্থানীয় সরকারের মোট বরাদ্দের ১৩.৩৬% চেয়ে ২৫০০০ কোটি টাকা বেশি। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ মাত্র ৭৯৯৪১ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১৪.২৫%। স্মরণতব্য ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজন ১৭.৬৮% বরাদ্দ। সংসদে এই সম্পর্কে প্রশ্ন না উঠা দুর্ভাগ্যজনক। পরিশোধতব্য বিদেশি ঋণের বিষয়টি জনসাধারণের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবর্গের ব্যর্থতা রাজনীতিতে তাদের অপরিপক্কতার পরিচায়ক এবং দুঃখজনক।

বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মাথাভারি, নিত্যনতুন সিনিয়র সচিবের জন্ম হচ্ছে, বাজেটের মোট বরাদ্দের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জনপ্রশাসনে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের জন্য এনাদের উর্বর মস্তিষ্ক খুব কার্যকর।

* গুন্ডা ফাটাকেষ্ট বনাম শেখ মুজিবুর রহমান
আওয়ামী লীগ সরকার অনুগ্রহ করে ঢাকঢোল পিটিয়ে, পায়ে ঝুমুর বেঁধে নেচে গেয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে অজান্তে গুন্ডা ফাটাকেষ্টে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। শেখ মুজিবের মন, মনন, মহানুভবতা, চিন্তা-চেতনা ও ভালোবাসার ঘ্রাণ নিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওলামা লীগ সবাই অক্ষম, অন্ধ, বধির।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ কর্মীরা যদি শেখ মুজিবকে ভালোবাসেন তবে ১৯৭৫ সনের ১৭ জুলাই মাসের নির্দেশনামা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। শেখ মুজিব গ্রামের মানুষকে ভালোবাসতেন নিজের চেয়েও বেশি, তাদের দুঃখ মোচন ও ক্ষমতায়ন ছিল তার স্বপ্ন। এবারের বাজেট হওয়া উচিত শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাস্তবায়ন, স্ব নির্বাচিত স্থানীয় প্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সম অধিকারে সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। শেখ মুজিবুরের মহানুভবতা আত্মস্থ করতে আওয়ামী লীগের অধিকাংশই অক্ষম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি নিজেও বিভ্রান্ত এবং ভীত-সন্ত্রস্ত। মৌলিক সংস্কারের বিকল্প নেই। পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অমর হবার শেষ সুযোগ যার মূল্য নোবেল পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশী। ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা ভুল সিদ্ধান্ত, পিতার ভুল থেকে শিক্ষা নিন। আমলাদের বেশি বিশ্বাস করতে নেই। স্বচ্ছ রাজনীতি আপনার বর্ম ও ধর্ম।

* শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও ভালোবাসা
দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক কর্মী এবং গ্রামগঞ্জের সাধারণ কৃষক শ্রমিকের জন্য ছিল শেখ মুজিবুরের অফুরন্ত ভালোবাসা, তাঁর হৃদয়ের দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া, কৃষক শ্রমিক সন্তানের শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল তার জীবনের ব্রত। সবাই তার একান্ত জন, আত্মীয়তুল্য। যাকে একবার শেখ মুজিব দেখেছেন, তাকে তিনি স্মরণ রেখেছেন স্নেহডোরে। কেন্দ্রিকতা তাঁকে করাচী ও ইসলামাবাদের শাসনের কথা বারে বারে স্মরণ করিয়েছে নির্মমভাবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রিকতা পূর্ব পাকিস্তানবাসীর সম সুযোগ ও সম উন্নয়নের প্রধান বাধা ছিল। যানজট, শাসনজট ও সময়মত স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চনার নির্মম মাফিয়া শাসন। পাকিস্তান ভাঙার অন্যতম কারণ কেন্দ্রিকতা, ধর্মের অপব্যবহার এবং কেন্দ্রিকতা দুর্নীতির সোপান। মুখে রক্ত সঞ্চারের মত। শহরের সকল সুযোগ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন শেখ মুজিব গ্রামবাসীদের জন্য, সঙ্গে নির্মল বাতাস ও লোকজ সংস্কৃতির বিস্তার।

তৃণমূলের অধিকার আদায় ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সনের ১৭ জুলাই মাসে, আগস্ট মাস অবধি চলছিল গভর্নরদের প্রশিক্ষণ। তিনি বুঝেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প নেই, কিন্তু ব্যাপক কৃষি সম্ভাবনা আছে। আছে শিল্পের উৎপাদন সৃষ্টির, তাই কৃষি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার বাহন, পদ্ধতি হবে ইউরোপীয় সমবায় ব্যবস্থাপনা, মেজর খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফকে ইউরোপে পাঠিয়ে ছিলেন সমবায় পদ্ধতি অবলোকন ও অধ্যয়নের জন্য। উদ্যোগ নিয়েছিলেন মৌলিক সংস্কারের যা আজও অসম্পূর্ণ। এই ব্যর্থতার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এড়াতে পারেন না। পরিবর্তনকে আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন? দেশ ও দেশবাসীকে ভালবাসাই শেখ হাসিনার শক্তি। গণতন্ত্রে আসন পরিবর্তন কোন অলৌকিক ঘটনা নয়। প্রকৃতির নিয়ম।

দ্রুত বিপদমুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি সরকারি বিনিয়োগ করতে হবে বেসরকারী কৃষি উৎপাদনে, সুষ্ঠ পরিকল্পনা ও তদারকীতে উদ্ধৃত্ত হয়ে ফিরে আসবে সকল বিনিয়োগ। ব্যাংক খেলাপির ঝামেলায় ঘুম হারিয়ে যাবে না। শিল্পপতিদের বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু কৃষককে বিশ্বাস করা যায়, তারা মিথ্যাচার কম করেন, কারন তারা ধর্মে বিশ্বাসী ও নীতিবান, তাদের ক্ষুধা সীমিত। মৎস্য, পানি সম্পদ, পোলট্রি,স্বাস্থ্য সেবা, ডেইরি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন নির্ভাবনায়। BIDS (বাংলাদেশ ইনসটিটিউট অব ডেভেলফমেন্ট স্টাডিস) ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সজাড়– তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে সঠিক নিবন্ধন, সঠিক কৃষককে সময় মত ঋণদান, সময়মত দূর্নীতি মুক্ত ঋণপ্রাপ্তি। সংগে রাখুন এনজিওদের, তারা তৃণমূলে সম্পৃক্ত এবং পরিশ্রমী, ক্ষুদ্র ঋণ দ্রুত প্রসার করে নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্রাকের প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ‘আশা’র শফিকুল হক চৌধুরীর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণযোগ্য।

* স্থানীয় শাসন কমিশন ও গর্ভনর নিয়োগদান
ও) বৃহত্তর জনসাধারণের কল্যাণই রাজনীতি। সঠিক সময়ে নির্ভয়ে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক কর্মীকে মাথা উঁচু করে থাকা রাজনৈতিক নেতায় উন্নীত করে, ইতিহাসে স্থান করে দেয়। প্রাণপ্রিয় নেতার অসমাপ্ত কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক স্বনির্বাচিত, স্বশাসিত ৬৪ জেলা স্টেট (District State) সৃষ্টির লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে কমিশন গঠন করুন, ৬৪ জন গভর্নর নিযুক্তি দিন তৃণমূল রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবি, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা, বিচারক- বিচারপতি, দানশীল ব্যবসায়ী, প্রখ্যাত সাংবাদিকদের মধ্য থেকে। ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কেন্দ্র ও জেলা স্টেটে প্রশাসনিক সামঞ্জস্য থাকবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণে দ্রুত উন্নয়ন হবে। কিন্তু দুর্নীতি বহুলাংশে কমবে, সম অধিকার ও সম সুযোগ সৃষ্টি হবে, জবাবদিহিতা থাকবে, সুখের পায়রার বকবকুম শুনতে হবে না, জনপ্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিকভাবে নিজ জেলা স্টেটে সপরিবারে অবস্থান হবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের বেলাতেও এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। তাদের সন্তানদের স্ব স্ব জেলা স্টেটে অধ্যয়ন করতে হবে স্থানীয় কৃষক শ্রমিকের সন্তানদের সাথে একই বেঞ্চে বসে। দুই জায়গায় পরিবার রাখা মানে দুর্নীতিতে সজ্ঞানে অংশ গ্রহন, কর্তব্যে অবহেলা ও স্থানীয় উন্নয়নে মনোযোগ না দেয়া। স্বচ্ছ জবাবদিহিতামুলক দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে দুটি প্রশাসন ক্যাডার সৃষ্টি বিবেচ্য হওয়া উচিত- ব্যাপক জেলা স্টেট ক্যাডার এবং সীমিত কেন্দ্রীয় প্রশাসন ক্যাডার। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রন করবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি, আকাশ সমুদ্রপথ, আন্ত জেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়কর ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। পুলিশ হবে জেলা স্টেট সরকারের  নিয়ন্ত্রণাধীন। কোটা নয় প্রতিযোগিতাই হবে প্রশাসনে প্রবেশ পথ। বয়স সময়সীমা অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বয়স সীমা বিবেচ্য হতে পারে অন্যত্র নয়। স্বাভাবিক প্রশাসনে অহেতুক দুর্নীতি সৃষ্টি করে, সকল কর্মচারী কর্মকর্তাদের অবশ্যই ধূমপান, পানসেবন ও মাদকা আসক্তি মুক্ত হতে হবে, এগুলো দুর্নীতির প্রথম ধাপ। সকলের আয়কর তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামুলক।

স্থানীয় শিক্ষিতদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হবে জেলা প্রশাসনে, কৃষি উৎপাদন সমবায়ে এবং কৃষি বাজারজাত সমবায়ে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ হবে। কমিউনিস্ট ও বাম রাজনৈতিক নেতারা তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার পুরস্কার অর্জন করতে পারবেন কোন না কোন জেলা স্টেটে, তাদের শাসনের ধরন নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে। নির্মল পরিবেশে আধুনিক শিক্ষা সংস্কৃতির নতুন শহর গড়ে উঠবে জেলা ষ্টেটে, কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকার সম মানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা, সঙ্গে মুক্তচিন্তার সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় লোকশিল্প নিয়ে। শান্তির দ্বীপ হবে সব জেলা স্টেট, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীর জীবন যাত্রা হবে নিরন্তর নিরাপদ ও আনন্দময় এবং সম্পত্তিতে সমান অধিকার। জনসংখ্যা ভেদে প্রতিজেলা সংসদে  ৪০ থেকে ৮০ জন বিধায়ক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জনের মন্ত্রিসভা, প্রশাসন শীর্ষে গর্ভনর। কেন্দ্র নিয়োগ দেবে জেলা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের জেলা স্টেটের সিভিল সার্জনের পরামর্শে, কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (ইউএইচএফডব্লিওসি) সকল চিকিৎসক, সেবিকা ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের নিয়োগ উন্নয়ন নির্ধারণ করবেন জেলা স্টেট (District State) কর্তৃপক্ষ।

ওও) ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (ইউএইচএফডব্লিও)
সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সুবিধা ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা অসম্পূর্ণ ও অকল্পনীয়। করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মূল ভূমিকা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও সেবিকারা মূল সেনানী। এখানে বিনিয়োগ হবে অর্থবহ এবং অবশ্য প্রয়োজনীয়। কেবল যন্ত্রপতি ক্রয় নয়, যন্ত্রপাতির সহায়তায় সময়মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই লক্ষ্য। চিকিৎসক ও সেবিকাদের জ্ঞান ও সেবার উন্নয়ন হবে করোনা ও অন্যান্য মহামারি থেকে আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র।

আগামী ১০-১৫ বৎসরে একটি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা পৌঁছবে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ (পঞ্চাশ থেকে সত্তর) হাজারে। জনগণের চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ৬ (ছয়) ফুট উচু, ৮০০ অধিক রানিং ফুটের নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলকূপ ও ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা, সঙ্গে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালকের জন্য ১০০০ বর্গফুটের বিনা ভাড়ায় পারিবারিক বাসস্থান, মেট্রন, একজন দন্ত চিকিৎসক, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, দুইজন নবীন চিকিৎসক ও দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য ৬০০ (ছয়শত) বর্গফুটের ৮টি ফ্রি বাসস্থান, মেডিকেল, ডেন্টাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ছাত্র ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, বিনোদন কক্ষ, ডাইনিং রুম, টয়লেট সুবিধাসমেত ৪৫০০ বর্গফুটের ডরমিটরি এবং ২০ শয্যার ইনডোর হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার, প্যাথলজি, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ছোট অপারেশন কক্ষ বাবদ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) বর্গফুট স্থাপনা হবে জনগণকে দেয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য সুবিধা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুত রক্ষার প্রমাণ।

যেসব চিকিৎসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে (ইউএইচএফডব্লিও) সম্ভব হবে না সেগুলো রেফার হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নত চিকিৎসার জন্য। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকগণ কমিউনিটি ক্লিনিকেও প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী ও ধাইদের ক্রমাগত আধুনিক চিকিৎসা তথ্য জ্ঞাত করাবেন। তদোপরি তারা মেডিকেল ও অন্যান্য ছাত্রদের শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন যার জন্য  একটা শিক্ষকতা ভাতা (Teaching Allowance) পাবেন। তিন মাস মেয়াদি কোন একটা সার্টিফিকেট অধ্যয়ন ও পরীক্ষা দিয়ে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদে উন্নীত হবেন। কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা পাবেন। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান সুবিধা পাবেন। গ্রামবাসীদের নিরন্তর চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য চিকিৎসকদের জন্য জনগণের পুরস্কার।
সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল ও নাসিং কলেজকে এক বা একাধিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যানকেন্দ্রের (ইউএইচএফডব্লিও) সাথে সম্পৃক্ত হবে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা শিক্ষাদানের প্রধান হাতিয়ার। মুক্তিযুদ্ধ ও দরিদ্র শ্রেণির সাথে পরিচিতি দেশপ্রেমের অংশ।

ওওও) স্বাস্থ্যখাতের অন্য মৌলিক সংস্কার
প্রায় এক লাখ ব্যক্তি কারাবন্দি আছেন, জেল হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়া এবং চিকিৎসক স্বল্পতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আমলা ব্যবসায়ীদের, ভরসা সামরিক বাহিনীর হাসপাতাল সিএমএইচ (CMH), সকল কারাগার, পুলিশ, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড, হাসপাতালসমূহ সরাসরি Army Medical Corps (AMC) কর্তৃক পরিচালিত হলে শৃংখলা ফিরে আসবে, চিকিৎসকের অভাব হবে না। AMC হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সকল চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ানদের পদবি হবে সামরিক বাহিনীর- AMC র। তারা সুযোগ সুবিধা বেশি পাবেন। তাই তাদের কাজে থাকবে প্রশান্তি ও আনন্দ এবং সময়মত পেশাতে অগ্রগতি।

বেসামরিক অনেক সরকারি হাসপাতাল বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে AMC চিকিৎসকদের দ্বারা। আইনশৃংখলা বাহিনীর সকল সদস্য ও পরিবার বর্গ সামরিক বাহিনীর সমান সুযোগ পাবেন। সামরিক বাহিনীর মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরতরা এমবিবিএস পাস করে ৫ (পাঁচ) বৎসর AMC তে চাকুরি করতে বাধ্য থাকবেন, নতুবা ক্ষতিপূরণ দেবেন ত্রিশ লাখ টাকা।

ওঠ) ঢাকা শহরে জেনারেল প্রাকটিশনার্স ও রেফারেল পদ্ধতির প্রবর্তন
ঢাকা শহরে ১০০ ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেটে জেনারেল প্রাকটিশনার্স (এচ) ও রেফারেল পদ্ধতির জন্য ২০০০ (দুই হাজার) কোটি টাকা বরাদ্দ দিন। ২ কোটি নগরবাসীর জন্য খুব বেশি বরাদ্দ নয়।  ঢাকা শহরের সকল জেনারেল প্রাকটিশনার্স সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে লিপিবদ্ধ নাগরিকরা বিনা ফিতে পরামর্শের পাশাপাশি ইসিজি, আম্বুবেগ, অক্সিজেন- পালস অক্সোমিটার ও নেবুলাইজার সুবিধা, ফার্মেসি, ছোট ল্যাব, এএনসি-পিএনসি ও ফিজিওথেরাপী সুবিধা পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত থাকছে স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম ও হোমভিজিট বাড়িতে যেয়ে রোগী দেখা এবং প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অপচয় বটে, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে।

রোগীরা ন্যায্য মূল্যে সরকারি ওষুধ কোম্পানি ইডিসিএলের (EDC) সকল ওষুধ পাবেন অল্প খরচে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল রোগী বিনা ফিতে চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন, বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন সরকারি নির্দারিত একটা ন্যায্য ফি’তে। কেবলমাত্র জিপি চিকিৎসকগণ রোগীদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে অধিকতর চিকিৎসার জন্য রেফার করতে পারবেন, রোগীর হয়রানি কমবে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পেশা সংক্রান্ত সম্পর্ক গভীর হবে। হোম ভিজিট করলে এচ অতিরিক্ত ফি পাবেন। ফলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে।

কতক জেনারেল প্রাকটিশনার্সগন নিকটবর্তী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন আনন্দের সাথে, পাবেন শিক্ষকতা ভাতা। সাথে তার পছন্দ মত বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ করে, পরীক্ষায় পাশ করে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদ ও পাবেন, সঙ্গে আনুমানিক ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকার অতিরিক্ত ভাতা।

ঠ) পুষ্টি ব্যতীত স্বাস্থ্য অকল্পনীয়
দেশে দুই কোটি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে করোনা উদ্ভুদ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ছয়মাস ফ্রি রেশন দেয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। ৪-৬ জনের পরিবারের জন্য প্রতিমাসে চাল ২০ কেজি, আটা ৫ কেজি, আলু ১০ কেজি, সরিষার তৈল ১ লিটার, সয়াবিন তৈল ১ লিটার, পিয়াজ ১ কেজি, মশুর ডাল ২ কেজি, আদা ২০০ গ্রাম, রসুন ২০০ গ্রাম, শুকনো মরিচ ২০০ গ্রাম, লবণ ১/২ কেজি, চিনি ১/২ কেজি ও সাবান ২ টি সহ মোট খাদ্য প্যাকেট ব্যয় হবে অনধিক দুই হাজার টাকা। ফ্রি খাদ্য রেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের মাসিক ব্যয় মাত্র ৪০০০ (চার হাজার) কোটি টাকা। খাদ্য গুদামে স্থান বাড়বে যা কৃষকের শস্য উৎপাদনে আকর্ষণ বাড়াবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিমাসে প্রতি পরিবারকে আরও দিতে হবে দুই কৌটায় দুইশত আয়রন টেবলেট, ৬০ মিলিলিটারের এক বোতল পারাসিটামল সাসপেনশন, ৩০টি ৫০০ মিলিগ্রামের পারাসিটামল টেবলেট, ১০০ মিলিটার ক্লোরহেক্সাডিন এবং ৫ টি ORS সাসেটস, এতে ব্যয় হবে মাসে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা। সঙ্গে উঠানে সবজি চাষে সহযোগিতা। গর্ভবতী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের প্রতি সপ্তাহে একবার দুধ, ডিম খাবার সুবিধার জন্য মাসে ৫০০ টাকা নগদ সহযোগিতা দেয়া কাম্য হবে। স্মরণ রাখতে হবে নগদ অনুদান অধিকতর দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। সুতরাং নগদ অনুদানের পরিমাণ যথাসাধ্য কম রাখতে হবে। খাদ্য সহযোগিতা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে, সর্বদলীয় রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র ও NGOদের সহায়তায়, সঙ্গে থাকবেন সামরিক বাহিনীর দেশপ্রেমিক সেনানীরা।

ঠও) অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস সামাজিক বৈষম্য নিরসনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
ক) নতুন সিনিয়র সচিব নয়
নিত্যনতুন সিনিয়র সচিব সৃষ্টি কাম্য নয়, কোন আমলাকে চাকুরিতে এক্সটেনশন দেয়া অনভিপ্রেত। এরা রাজনীতিবিদদের প্রতিপক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন বিরোধী, সুখের পায়রা, জনগণ বিচ্ছিন্ন। জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি এবং জবাবদিহিতা বিহীন প্রশাসনে এদের বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।

খ) সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কর্পোরেট কর্মকর্তাদের বেতন হ্রাস
ইনসপেকটার থেকে ওএচ,ক্যাপ্টেন থেকে জেনারেল, সেকসন অফিসার থেকে সিনিয়র সচিব, লেকচারার থেকে উপাচার্য, করপোরেট কর্মকর্তা, ব্যাংকার, বিচারক থেকে বিচারপতি, সাংসদ,মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের আগামী এক বৎসর ২০% বেতন ও ভাতা হ্রাস করা হবে করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য এবং দেশের সার্বিক অধিক অবস্থার বিবেচনায় যৌক্তিক কার্যক্রম। এক শ্রেণির নাগরিক তারা প্রাচুর্যে জীবনযাপন করবেন আর শ্রমিকরা অর্ধাহারে কালাতিপাত করবেন, তা সভ্য নয়।
গ) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের টিউশন ফি ২৫% হ্রাস বাঞ্ছনীয়।
ঘ) বিদেশে সরকারি অর্থে চিকিৎসা সুবিধা রহিতকরণ।

সরকারি অর্থায়নে বিদেশে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন না সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনও নাগরিক। সবাইকে চিকিৎসা নিজ দেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

ঙ) ক্ষতিপূরণ ব্যতিরেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কুইক রেন্টাল ২০২০ বাজেট থেকে প্রত্যাহার,  দেশবাসী আর কতদিন ব্যবসায়ীর হাতে প্রতারিত হবেন। মেগা প্রকল্পের লাগাম কিছুদিন ধরে রাখুন।
চ) জনপ্রশাসন (আমলাতন্ত্রের) বিভাগের ব্যয় ৫০% হ্রাসের ব্যবস্থা নিন।
ছ) প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল VIP দের নিরাপত্তা ব্যয় ৫০% কমানো হলে পুলিশ ও ইলিট
    ফোর্সের  সদস্যরা দেশের আইনশৃংখলা রক্ষায় অধিক মনোযোগ দেবার সুযোগ পাবেন, খুন
    খারাপি কমবে এবং রাহাজানি, ছিনতাই, পথে ঘাটে যৌন নিপীড়ন হ্রাস পাবে, সফলতার জন্য
    পুলিশ পুরস্কৃত হবেন। পুলিশ হবেন জনগণের সত্যিকারের বন্ধু।
জ) মাদ্রাসাশিক্ষায় এত বেশি বিনিয়োগ কি পর্যাপ্ত “ডিভিডেন্ট” দিচ্ছে? অধিক হারে মসজিদ
    ভিত্তিক বেকার সৃষ্টি নয় কি? বিজ্ঞান শিক্ষাকে মাদরাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত করে সকল  
    সম্প্রদায়ের জন্য উন্মক্ত থাকবে। মসজিদকে কি প্রাক স্কুল হিসাবে ব্যবহার করা যায়?
ঝ) ব্যয় হ্রাসের অজুহাতে কোনও শ্রমিক ছাঁটাই চলবে না।
ঞ) রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক।

(চলবে)

লেখক:  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি