রাক্ষসরা এখনও বুক উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ আপডেট: ০৮:৪৬

রাক্ষসরা এখনও বুক উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে

আমাদের রাজনীতির আশেপাশে একশ্রেণির লোক বসত করে, যারা সকল সময় সুযোগের সন্ধানে পাগলা কুকুরের মত ঘুরাফেরা করে থাকে। কখন কোথায় কি পাওয়া যাবে কিংবা কিভাবে অবৈধ ধন-সম্পদ অর্জন করে নিজের ঝুলি ভরা যাবে, এরকম চিন্তায় বিভোর হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। তাদের রাজনৈতিক কোন দর্শন কিংবা কোন ধরনের নীতি আদর্শ থাকে না। তারা রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি আদর্শের ধার ধারেনা। তারা যে সময় যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের পতাকা নিয়ে রাজপথে-জনপথে সার্কাসের জোকারের মত ছুটাছুটি করে। নেতা-নেত্রীদের তোষামোদ করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় আজকের দিনের হাইব্রিড নেতা কর্মীরা।

তাদের অর্থাৎ হাইব্রিড নেতা কর্মীদের তাপে দলের মূল ত্যাগী নেতা-কর্মীরা অনেক সময় দলীয় অফিসে প্রবেশ করতে পর্যন্ত পারেনা। এরকম অভিযোগ আজকাল আমরা কোন বিশেষ দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের মুখে প্রায়ই শুনে থাকি। সচেতন ব্যক্তিরা বলেন তোষামোদকারী লোকেরা খুবই ভয়ঙ্কর। তারা তাদের হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজের আপন মানুষের গলায় ছুরি চালাতে এক মিনিটও চিন্তা করে না। এসব কথা বিজ্ঞজনেরা পত্র পত্রিকায় অনেক বার বলেছেন। আগামীতেও বলবেন। আমাদেরকেও নতুন করে বলতে হচ্ছে। আমাদের আগামী প্রযন্মের লেখক লেখিকারাও বলবে। 

আরও পড়ুন: অন্যায় রুখতে আইনের পাশাপাশি মনো পরিবর্তন জরুরি!

কেননা এসব হীনস্বার্থ উদ্ধারকারী হাইব্রীড নেতাকর্মীরা প্রত্যেক কালে প্রত্যেক সময়ে আমাদের সমাজে ছিল এবং থাকবে। এখন দেখা যায় বর্তমান সরকারী দলের মিছিল মিটিংএ লোকজনের অভাব হয় না। কোথা থেকে তারা আসে অনেক সময় কেউ বলতেও পারেনা। তাদেরকে চেনাও যায় না। এসে বলে আমরাই বর্তমান সরকারী দলের আসল ত্যাগী নেতা কর্মী। আমরাই বঙ্গবন্ধুর পরীক্ষিত সৈনিক। বেরসিকরা বলে থাকেন ঐ যে দেখছেন এত লোক সরকারী দলের মিছিল মিটিংএ, তারা হল সময়ের মধু সংগ্রহকারী। তাদেরকে বসন্তের কোকিলও বলা যায়।  এইসব বসন্তের কোকিলরা যখন কোন দলের কিংবা কোন মানুষের সুদিন দেখে, তখনই তারা কিছু পাওয়ার আশায় নেতা-নেত্রীদের আশেপাশে ঘুরাফেরা করে থাকে। কোন দলের কিংবা কোন ব্যক্তির  দুর্দিন আসলে এসব হাইব্রীড নেতা কর্মীদের কিংবা সময়ের মধু সংগ্রহকারীদের কিংবা বসন্তের কোকিলদের খোঁজে পাওয়া যায় না। তারা তখন অন্যত্র সুখের সন্ধানে ঘুরাফেরা করবে। 

আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছে, যাদেরকে বলা হয়ে থাকে মুখকাটা মানুষ। তারা মুখের ওপর সত্য কথা বলে ফেলে। তাতে কে রাগ করল কিংবা কে খুশি হল তা মুখকাটা মানুষেরা চিন্তাও করে না। তাদের চিন্তা ভাবনায় কখনও অন্যকে খুশি করে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের কথা আসেই না। তাই অনেকে বলে থাকেন মুখকাঁটা স্বভাবের জন্য এসব মানুষ জীবনে উন্নতি করতে পারেনা। মুখকাটা মানুষদেরকে অনেকেই আবার বেরসিক মানুষও বলে থাকেন। এই শ্রেণির লোকদের আমরা মুখকাটা মানুষই বলি আর বেরসিক মানুষই বলিনা কেন, তারা কিন্তু উচিত কথা বলতে কখনো ভয় কিংবা দ্বিধাবোধ করে না। তাই এমন প্রকৃতির মানুষদের নষ্ট মানুষেরা দুচোখে দেখতে পারে না এবং সমাজের স্বার্থপর শ্রেণির মানুষেরা তাদের কথায় কান দিয়ে সামনের দিকে যেতে চায় না। আমাদের সমাজে সৎ মানুষের ভাল মূল্যায়ন নেই বলেই, আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সেই ছোট্ট বেলায় পড়া ঠাকুরমার ঝুলির রাক্ষসরা আধিপত্য গ্রহণ করেছে। এবং রাক্ষসরা আমাদের সমাজে বুক উঁচু করে নির্লজ্জের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে।
 
সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয় যে, ‘মৌসমী ঝড়ে যুবলীগ’। সেখানে বলা হয় যে, যুবলীগের দুইশত একজন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার পরেই ঐ সদস্যের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন অনেকে। অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন এবং কেউ কেউ প্রশ্নও করেছেন “মৌসুমী তুমি কার”। ফেসবুকে যেসব ছবিগুলো শেয়ার করা হয়েছে, তাতে দেখা যায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন সোফায় বসে আছেন। তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন মৌসুমী। আরেকটি ছবি আছে সেখানে দু’জনেই বসা। সংবাদ ভাষ্যে বলা হয়েছে যে, যুবলীগের ঘোষিত কমিটিতে শুধু মৌসুমীই মৌসুমী পাখি হয়ে যুবলীগে প্রবেশ করেননি, তাতে অর্থাৎ কমিটিতে বিএনপিসহ ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সমাজে শুভ পরিবর্তন আসবে কবে? 

মৌসুমীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্যা। তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, ‘তার ছবি এরশাদ সাহেবের সাথে দেখলাম, খালেদা জিয়ার সাথেও দেখলাম। এমনকি আমাদের নেত্রীর পিছনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। এই নারীতো সুবিধাবাদী। এরা খুবই বিপজ্জনক। এরা আমাদের নেত্রী পর্যন্ত কাদের হাত ধরে আসে??? আসুন তাদের চিহ্নিত করি’। তবে জানা যায় যে, মৌসুমীর ছবির ব্যাপারে কেউ কেউ বলছেন যে মৌসুমী ভাই নাকি বড় চাকরি করতেন। ভাইয়ের সাথে গিয়ে ছবিগুলো তুলেছেন। ছবিগুলো অনেক আগের। প্রশ্ন এসেছে সুবিধাবাদীরা কার হাত ধরে নেত্রী পর্যন্ত আসে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদেরকে অনেক গভীরে যেতে হবে। মনে হয়না সহজে এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজে পাওয়া যাবে। এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে যাওয়া আমাদের মত সাধারন মানুষের কাজ নয়। আমরা যদি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে যাই, তাহলে দেখা যাবে সমাজ সংসারের মানুষ আমাদের কথা কানেই তুলছে না। আবার এমন কথাও বলতে পারে তুমি আদার ব্যাপারী, জাহাজের খরর নেওয়ার কি প্রয়োজন। 

ঐ যে আগে বলেছিলাম আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মুখকাটা মানুষ আছে, যাদেরকে কেউ কেউ বেরসিক লোক বলে থাকেন। যদিও তাদেরকে আমাদের সমাজের বিবেক বলেই ধরে নেয় অনেকে। ওই মুখকাটা বেরসিক মানুষরা বলে থাকে সাহেদের মত লোকেরা আমাদের রাষ্ট্রের এবং সমাজের অতিউচ্চ স্তরের মানুষের চেম্বার থেকে শুরু করে যেভাবে এক শ্রেণির নেতাদের অন্দর মহল পর্যন্ত আসা যাওয়া করে থাকে, ঠিক তেমনি ভাবেই সুবিধাবাদী লোকরা সকল সময় সকল কালে যেকোন সময়ের সরকারী দলের অন্দর মহলের ছিদ্র অন্বেষণ করে অন্দর মহলে পর্যন্ত অবাধে ঢুকে যায়। সেখানে ত্যাগী নেতাদের কোন মূল্যায়নও থাকেনা। থাকে অর্থ বিত্তের মূল্যায়ন কিংবা অন্য কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। মুখকাটা বেরসিক মানুষরা বলে থাকে, এখন জঙ্গলের আগাছাও নাকি বলে আমরাই সরকারী দলের আসল ত্যাগী কর্মী। জলাশয়ের পোকা-মাঁকড়রাও বলে আমরাই সরকারি দলের পোড়খাওয়া নেতা। যদিও ত্যাগী নেতারা বলে থাকে এসব আগাছা আর পোকা-মাঁকড়রাই হল হাইব্রীড। এখন এদেরই দাম বেশি। 

এই শ্রেণির লোকদের পরিবারের মানুষের সংখ্যা যদি পাঁচজন হয়ে থাকে, তাহলে দেখা যাবে পাঁচজনই পাঁচটি দলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অনেকেই মনে করে থাকেন এখানে মৌসুমীর মত মানুষদেরকে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। দোষারোপ যদি করতেই হয়, তাহলে তাদেরকেই দোষারোপ করতে হবে, যারা কোন কিছুর বিনিময়ে হাইব্রীড নেতাকর্মীদের ভাল জায়গায় স্থান করে দেন। বিচার বিশ্লেষন করে যদি আমরা অর্থাৎ সাধারন মানুষ কিছু বলতে চাই, তাহলে বলতে হবে আমাদের রাজনীতির মাঝে ভিতরে ভিতরে এমন পঁচন ধরেছে, যার দুর্গন্ধ সাধারণ মানুষের নাকে এসে লাগছে। সচেতন মানুষেরা বলে থাকেন রাজনীতি এখন আর জনসেবার জন্য একশ্রেণীর নেতারা করেন বলে মানুষ বিশ্বাস করে না। রাজনীতি হচ্ছে এখন একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবসা বাণিজ্যের একটা বিরাট মাধ্যম। যে মাধ্যম ব্যবহার করে একটা বিক্রয় কর্মী হয়ে যায় হাজার কোটি টাকার মালিক। তাহলে পাঠক/পাঠিকারা বুঝুন আমাদের রাজনীতিতে কোন শ্রেণির র মানুষের আমদানী হয়েছে

 
আমরা সাধারণ মানুষ বলতে চাই না, রাজনীতিতে ভালো মানুষ নেই। কিন্তু রাজনীতি করা ভালো মানুষেরা হয় নিজে নিজে নিরব হয়ে গেছেন কিংবা আমলাদেরকে যেভাবে ওএসডি করা হয়, তেমনি ভাবে হাইব্রীড নেতারা ভাল মানুষদেরকে রাজনীতিতে ওএসডি করে রেখেছেন। আমার কথা অনেকেরই ভাল লাগবে না। ভাল লাগার কথাও নয়। কিন্তু কথা হল সময়তো তার নিয়ম অনুযায়ীই  তার বার্তা নিয়ে চলবে। সেই দিন আর বেশী দূরে নয়, যেদিন ভাল মানুষেরা রাজনীতিতে তাদের সৎ দাপট নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন। হাইব্রিড নেতা-কর্মীরা হয়তো সাময়িক কাল পর্যন্ত আমাদের রাজনীতির মাঠে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য অর্থ বিত্ত দ্বারা সচেষ্ট থাকবেন। কিন্তু কৃত্রিমতাতো কৃত্রিমতাই। কৃত্রিমতা কোন সময় কোন কিছুর জন্ম দিতে পারে না এবং কোন ধরনের সৎ উৎপাদনের অংশীদার হতে পারেনা। তাই মানুষকে হতাশ হলে চলবে না।

মনে রাখতে হবে একটা মানুষ অবৈধভাবে যতই অর্থ বিত্তের মালিক হোকনা কেন, সময় তাকে একদিন ঠিকই মানুষের সামনে উলঙ্গ করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেবেই। কেননা হাইব্রীড নেতাকর্মীরা সারা জীবন হাইব্রিড নেতাকর্মীই থাকবে, যে দলেই তারা যাক না কেন। তাই বলছিলাম, যারা আমাদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন তারা যেন মনে রাখেন, সময় ঠিকই কথা বলবে এবং আজকে যারা সুবিধাভোগী হাইব্রিড নেতাকর্মীদের দলে ভাল স্থানে জায়গা দিয়ে ত্যাগী নেতাদের অপমান করছেন, সেই সব সুবিধাবাদী রাজনৈতিকবিদদেরকে সময় ঠিকই চিহ্নত করবে এবং চিহ্নিত করে পাপের শাস্তি হিসাবে জনগনের সামনে উলঙ্গ করে মুখে চুনকালি মাখাবে। তাই সময় থাকতেই সাবধান।

লেখক: আইনজীবী, কবি ও গল্পকার।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি