ট্রাম্প আমাদের কে?

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
২৩ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার
প্রকাশিত: ০৩:১৪

ট্রাম্প আমাদের কে?

লেখার শিরোনাম দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, এরকম বিষয় নিয়ে লেখার কি প্রয়োজন দেখা দিল। এ বিষয়ে লেখার কি কোনো প্রয়োজন আছে? আসলেই কি কোনো দরকার আছে ট্রাম্পের বিষয় নিয়ে কিছু লিখার। পাঠক/পাঠিকা আমার ট্রাম্প আমাদের রাজনীতির মাঠের কেউ নন। তিনি আমাদের মন্ত্রী নন। কোনো বিরোধী দলের নেতাও নন। তার চৌদ্দ পুরুষের বাড়ি-ঘরও আমাদের দেশে নয়। লেখার প্রথম ভাগে একটা বিষয় বলে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি এই জন্যে যে, এ লেখায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের কর্মকান্ডের ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কিছুই লেখা হবে না। আমাদের কাছে ব্যক্তি ট্রাম্প কোনো বিষয়ই নয় বলে অনেকে মনে করেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর ব্যক্তি ট্রাম্প এক নন। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দ্বারা যা কিছু করতে পারেন, ব্যক্তি ট্রাম্প কি তা করতে পারেন। নিশ্চয়ই ব্যক্তি ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মত কিছুই করতে পারেন না। ব্যক্তি ট্রাম্প যেহেতু এখন আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেই, তাই তাকে নিয়ে এত লেখা-লেখির কি প্রয়োজন আছে। যে কোনো বিজ্ঞব্যক্তিরাই বলবেন এখন ট্রাম্প ক্ষমতাহীন। এখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর দশজন সাধারণ নাগরিকের মত একজন সাধারণ মানুষ মাত্র। অথচ আমাদের দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ সমূহের দিকে তাকালে কিংবা ট্রাম্পকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পাঠ করলে মনে হয়, ব্যক্তি ট্রাম্প যেন আমাদের ব্যক্তি জীবনের কিংবা রাজনৈতিক জীবনের কিংবা আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনের কোনো ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ব্যক্তি। এক ধরনের সংবাদ মাধ্যম গুলো ব্যক্তি ট্রাম্পকে নিয়ে এমন ভাবে সংবাদ পরিবেশন করেন, যা দেখলে কিংবা পাঠ করলে মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প আমাদের রাজনীতির মাঠের বিরাট এক অংশ হয়ে আছেন। অথচ ব্যক্তি ট্রাম্প  আমাদের রাজনীতির মাঠের কোনো স্থানেরই খেলোয়াড় নন।
 
অনেকেই বলাবলি করেন ব্যক্তি ট্রাম্পের সংবাদ, বিশেষ করে নেতিবাচক সংবাদ গুলি এক ধরনের পাঠক/পাঠিকারা  খুবই মন দিয়ে পড়ে থাকেন। এমন কি যে সব সংবাদ পাঠক/পাঠিকারা নিজেদেরকে খুবই সচেতন মার্জিত বলে দাবি করে থাকেন, তারা পর্যন্ত ব্যক্তি ট্রাম্পের নেতিবাচক সংবাদ সমূহ পাঠ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। তবে এ কথা সর্বক্ষেত্রে সত্য যে, যারা সচেতন কিংবা যাদের রাজনীতির মাঠের সকল বড় রাস্তা ছোট রাস্তা চেনা জানা আছে,  তারাও কিন্তু ব্যক্তি ট্রাম্পের নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচক সংবাদ পাঠ করার জন্য সময় নষ্ট করতে রাজি নন। আমাদের দেশের রাজনীতির মত আমাদের সংবাদ পত্র গুলি দুটি ভাগে বিভাক্ত। 

একশ্রেণির লোক আছেন, যারা সকল ক্ষেত্রেই রাজনীতি খোঁজে বেড়ান। সব কিছুতে রাজনীতির গন্ধ না পেলে তাদের রাতের ঘুমই ভালো হয় না। অনেকেই বলে থাকেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটের সুযোগ নিয়ে এক ধরনের লোক নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য গুলি বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য সব কিছুকেই ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক চিন্তা দ্বারা বিচার বিশ্লেষণ করে থাকেন। দেশের সাধারন মানুষকে কোনো কিছুর ভুল ব্যাখা দিয়ে ভুল বিষয় আশয় বুঝিয়ে নিজেদের স্বার্থকে সর্বক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। 

তাতে যদি সংবাদ পত্রের পাঠক/পাঠিকাদের মনোজগতের বড় ধরনের ক্ষতিকারক নেতিবাচক পরিবর্তনও ঘটে, তাতে স্বার্থবাদীদের কিছু যায় আসে না। তারা অর্থাৎ হীনস্বার্থ উদ্ধারকারী লোকজন মনে করেন, সংবাদ পত্রের সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে যেভাবে অন্ধ এবং ক্ষতিকারক প্রতিযোগিতা চলছে, সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সত্য হউক কিংবা মিথ্যা হউক কিংবা প্রয়োজনীয় হউক কিংবা অপ্রয়োজনীয় হউক যে কোনো সংবাদ পরিবেশন করে যেতেই হবে। তা না হলে  সংবাদ মাধ্যম চালানো যাবে না এবং সংবাদ পত্রের ঘোড়া দৌড়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। পাঠক/পাঠিকাদের মন জয় করতে হলে নতুন নতুন চমকপ্রদ রসালো সংবাদ পরিবেশন কিংবা প্রকাশ করতে কোনো সংবাদ মাধ্যম যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে পাঠক/পাঠিকাদের মন জয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

চমকপ্রদ ও রসালো সংবাদ প্রকাশ করার জন্য যদি আমাদের দেশের মানুষের মনে কিংবা সমাজের সামগ্রীক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, তাহলেও আমাদের দেশের নেগেটিভ সংবাদ মাধ্যম গুলো আমাদের দেশের সংবাদ পত্রের পাঠক/ পাঠিকাদের কাছে নেতিবাচক কিংবা প্রয়োজন নেই, এমন সংবাদ প্রকাশ করে যাবেই। সচেতন পাঠক/ পাঠিকাদেরকে অনেক সময় বিভ্রান্তির মধ্যেও পড়তে হয় এই জন্য যে, দেশের এক ধরনের নেগেটিভ সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত অহেতুক মিথ্যা গুরুত্বহীন সংবাদ প্রকাশ করার জন্যে। নেতিবাচক সংবাদগুলো এমন ভাবে পাঠক/ পাঠিকাদের সামনে হাজির করা হয়, যা দেখে পাঠক/ পাঠিকারা বুঝতেই পারেন না কেনো দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম গুলো অহেতুক মিথ্যা গুরুত্বহীন সংবাদ গুলিকে রসালো রং দিয়ে সাজিয়ে পাঠক/পাঠিকাদের সামনে প্রকাশ করে চরম  দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সময় একশ্রেণীর দায়িত্বহীন সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বহীন সংবাদ প্রকাশ করার জন্য দেশের মধ্যে বিরাট বড় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে।

আজকের দিনে সচেতন সংবাদ পাঠক/পাঠিকারা যদি সংবাদ মাধ্যমের দিকে চোখ ফেলেন, তাহলে দেখতে পারবেন একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমে ট্রাম্পের পরাজয় নিয়ে এমন ভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যেন মনে হয় ট্রাম্প আমাদের দেশের কোনো নির্বাচনী এলাকায় দেশের কোনো রাজনৈতিক দল থেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি পরাজয় হওয়ায় আমাদের জীবনে অনেক সুফল মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পালা বদল ঘটলেও তাদের পররাষ্ট্রনীতির কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটে না। ট্রাম্পের পরাজয়ের জন্য মধ্য প্রাচ্যের আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি কিংবা তাদের সাম্রারাজ্যবাদী নীতির কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটবেনা। ঘটবে কি আফ্রিকা মহাদেশের দরিদ্র ছোট ছোট দেশগুলোর ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কোনো সুখময় পরিবর্তন। আবার মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য আমাদের মতো দেশগুলোর যে রূপ ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে, তারও কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে ব্যক্তিই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেন না কেনো, তাকে তার পূর্ববর্তী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কর্ম সমূহকে ব্যাপক ভাবে অনুসরন করে চলতে হয়। 

কেননা মার্কিন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পুঁজিবাদ হচ্ছে প্রথম ব্যাপার। তার বাইরে কোনো ব্যক্তি কিংবা দল পরিবর্তিত পথে এগিয়ে যেতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যে কোনো ব্যক্তি কিংবা দল আসুক না কেনো, সেই ব্যক্তি কিংবা দলকে চরম পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সামনের রেখেই অগ্রসর হতে হবে। মার্কিন রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করে থাকে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা। অনেক বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন, অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই মার্কিন রাজনীতি নিয়ন্ত্রনে বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই দেশে দেশে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংস্থার কাছে অস্ত্র বিক্রি করে নিজেদের অর্থের বাজার বিস্তৃত করে থাকেন। মার্কিন নির্বাচনে পাঠক/পাঠিকারা যদি লক্ষ করেন, তা হলে দেখবেন নির্বাচনে কেবল ব্যক্তির জয় পরাজয় ঘটে থাকে। সেখানে আর্দশের কোনো ধরনের নৈতিক পরিবর্তন ঘটে না। ট্রাম্প আমল এবং নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের আমলের যদি পার্থক্য ভবিষৎতে করতে যান, তাহলে দেখতে পাবেন হয় ট্রম্পের আমলে মানুষ ছিল আগুনের চুল্লির ভিতর আর জো-বাইডেনের আমল দেখা যাবে মানুষের বসবাস ছিল গরম কড়াইর উপর। সেখানে ব্যক্তির কোনো কিছু করার নেই কিংবা ব্যক্তির কোনো কিছু করার থাকে না।

সেখানে পুঁজিবাদী কিংবা সাম্রারাজ্যবাদী নীতিই হচ্ছে আসল। তাই দেখা যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন ঘটলেও মার্কিন রাষ্ট্রীয় নীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটবে না। মার্কিনীদের পররাষ্ট্রনীতিতে ঠিকই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষের সহায় সম্বল গ্রাস করার নীতি থাকবেই। অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ঠিকই বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে পৃথিবীর মানুষকে বলির পাঠা বানাবেই। হিংসার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন অস্ত্র পৃথিবীর বাজারে হাজির করে তাদের ক্ষমতার অহংকার ঠিকই দেখাবে। তাতে ঠিকই শিশু নারী অসহায় বৃদ্ধ/বৃদ্ধা মানবেতর জীবন কাটাবে। মার্কিনীদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাঠের আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে জনপদের পর জনপদ। তাই আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালা বদলের নির্বাচনে কে হারলো কিংবা কে জিতলো তা নিয়ে ভাবার কোনো প্রয়োজন আছে বলে বিজ্ঞজনরা মনে করেন না। যদি মার্কিন নির্বাচনের জয় পরাজয়ের জন্য পৃথিবীর বাতাসে বারুদের গন্ধ না পাওয়া যেত, তাহলে না হয় আমরা পৃথিবীবাসী আকুল হয়ে থাকতাম এই নির্বাচনের ফলাফলের জন্য। 

একটা কথা মনে রাখতে হবে, যে গাছে খাওয়ার অযোগ্য ফল ধরে, সেই গাছে কোনো দিন খাওয়ার যোগ্য ফল ধরে না। তাতে অন্য কোনো ভালো জিনিসও আসে না। তাই মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের জন্যে পৃথিবী নির্যাতিত জনগনের জন্য কোনো ধরনের ইতিবাচক ফলাফল আসে না। তাই আমাদের মত পৃথিবীর মানুষকে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আনন্দ উল্লাস্ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে সচেতন ব্যক্তিরা মনে করেন না।

তাই বলছিলাম, আমাদের দেশের দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম গুলোর অবশ্যই করনীয় কাজ হবে আমাদের নিজেদেরকে নিয়ে ভাবা। আমরা যদি নিজেদেরকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি, তাহলে হয়তোবা নিজেদের ভালো কিছু করতে পারবো। অযথা মার্কিন নির্বাচনের মত বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। কেননা ট্রাম্প আর জো-বাইডেনের মধ্যে কোনো ধরনের নীতিগত পার্থক্য আছে বলে বিজ্ঞজনরা মনে করেন না। যদিও তারা নীতিগত ভাবে দুটি দলে অবস্থান করছেন। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে ঘাড়ের নামই গর্দনা। 

লেখক: আইনজীবী, কবি, গল্পকার।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি