দক্ষিণ যুবলীগের দায়িত্ব নিতে চান যারা

স্টাফ কসেরপন্ডেন্টে
২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৫:১৪ আপডেট: ১০:২০

দক্ষিণ যুবলীগের দায়িত্ব নিতে চান যারা

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত যুবলীগ। ক্যাসিনোকাণ্ডে বারবার দক্ষিণ যুবলীগের নাম আসার ইমেজ সংকটে পরে সংগঠনটি। বিশেষ করে সরকারের শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আাটক হন সংগঠনটির দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসামইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগীরা। আটক হওয়ার পরপরই সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কারও করা হয়। অব্যাহতি দেয়া হয় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকেও।। 

দীর্ঘ সাত বছর পর আগামী ২৩ নভেম্বর রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরপরই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলন।  ইমেজ সংকট কাটিয়ে দক্ষিণ যুবলীগকে একটি গতিশীল করার দায়িত্ব নিতে চায় একঝাঁক সাবেক ছাত্র নেতা। ইমেজ পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব থাকেবে নতুন নেতৃত্বের কাঁধে। 

দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ পদের দায়িত্ব নিতে পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যেই লবিং-তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নানা উপায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসার চেষ্টা করছেন।

নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষিণ যুবলীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দাবি অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যারা জড়িয়ে পড়েছেন, তারা যাতে কোনো ভাবেই নেতৃত্বে না আসতে পারে। তাদের দাবি, দক্ষিণ যুবলীগে অবশ্যই সৎ, অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধিকারী হতে হবে।
 
তবে এবারের সম্মেলনে প্রাধান্য দেয়া হতে পার ১/১১-এর পরীক্ষিত কর্মীদের। পদপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেরাও চান সংগঠনের নেতৃত্বের দায়িত্ব যেই পান, তিনি যেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আর সাংগঠনিক দক্ষ হয়।
 
দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ পদের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন দক্ষিণের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা। তিনি সংগঠনটির সভাপতি প্রার্থী। রেজাউল করিম রেজা বিএনপি-জামায়াতের আমলে সামনের কাতারে থেকে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতি করেছেন। ১/১১ এর সময়ও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ছিলেন সামনের সারিতে। 

রেজাউল করিম রেজা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা যারা দীর্ঘদিন যাবত বঙ্গবন্ধুর আর্দশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন, যারা সৎ, দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করা যেতে পারে। তবে সংগঠনের বাহির থেকে নয়, যারা দীর্ঘ দিন দক্ষিণের যুবলীগের দায়িত্বপালন করছেন তাদের মধ্য থেকে।

এ যাত্রায় আরও এগিয়ে আছেন সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হচ্ছে। যারা দুঃসময়ে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করেছেন, ক্লিন ইমেজে রয়েছে তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বাছাই করা হোক।

এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণ যুবলীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম ফেরদৌস ইব্রাহিম। ১/১১-এর দুর্দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছে।  সাবেক এই ছাত্রনেতা ১/১১এর দুঃসময়ে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন সামনের কাতারে।

ইব্রাহিম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, যাদের ছাত্রলীগ ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তাদের মধ্য থেকে যুবলীগের কমিটি হোক। যাদের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে জনপ্রিয়তা, সৎ ও দক্ষ হিসেবে সুপরিচিতি রয়েছে তারা নেতৃত্বে আসুক। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেভাবে নতুন নেতৃত্ব সাজাবেন এবং যেই সিদ্ধান্তই দিবেন তা বাস্তবায়ন করতে আমরা অতীতের মতই কাজ করে যাব।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকে আলোচনা রয়েছে সোহেল শাহরিয়ার। তিনি ১৯৯৭ সালে রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ২০০২ বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে রাজপথে থেকেছেন। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকায় বিএনপির হাতে অনেক অত্যাচর ও নিযার্তনের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি হয়েছেন কয়েক বার। ১/১১- এর সময় নেত্রীর মু্ক্তি আন্দোলন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে আটক হন। তখনও নির্যাতনে শিকার হন তিনি। 

যুবলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে সোহেল শাহরিয়ার বলেন, যারা দুর্দিনে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা হৃদয় দিয়ে ধারণ করে ও লালন করে তাদের মধ্যে থেকে যুবলীগের নেতৃত্ব আসুক। তারা সততার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা করবে।

দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নিতে চান সাবেক ছাত্রনেতা  এস এম সিরাজুল ইসলাম। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সাবেক ছাত্রলীগের মধ্য থেকেই যুবলীগে নেতৃত্ব আনতে হবে। তাহলেই দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। ত্যাগী ও ছাত্রলীগ করে আসা সাবেক নেতাদের নতুন নেতৃত্বে নিয়ে আসা সময়ের দাবি। 

যুবলীগ দক্ষিণের সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ৫ জুলাই। আর উত্তরের সম্মেলন হয়েছিল ৮ জুলাই। ওই সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হন ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট এবং সাধারণ সম্পাদক হন ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফ। আর উত্তরের সভাপতি হন মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ইসমাইল হোসেন। ২০১৩ সালে মিল্কী হত্যার পর পলাতক থাকেন ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফ। এসময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান এইচ এম রেজাউল করিম রেজা।
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি