শিগগিরই রাজপথে ‘কঠোর আন্দোলনের’ বার্তা বিএনপির

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৪:১৮ আপডেট: ০৮:১৭

শিগগিরই রাজপথে ‘কঠোর আন্দোলনের’ বার্তা বিএনপির
ছবি: সালেকুজ্জামান রাজীব; ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের অধিক সময়ে ধরে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর অসুস্থ দলের প্রধানের মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ দেখছে না বিএনপি। তাই শিগগিরই কঠোর আন্দোলনের নামতে চায় বিএনপি।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অনেকদিন পর পুলিশের বাধা-ব্যারিকেড অপেক্ষা করে সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশ থেকে দলের নীতিনির্ধারকরা রাজপথে কঠোর আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের সবারই মুখেই গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কঠোর আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ব্যারিকেড-বাধা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘১৬ কোটি মানুষের নয়নের মনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি ছিলো বিক্ষোভ মিছিল। এতে পুলিশ বাধা দিয়েছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড় দিয়ে বাধা দিয়েছো।’



তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করেছে এভাবে দমন নিপীড়ন বাধা দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করবে। জনগণের যে প্রাণের দাবি তাকে বাধাগ্রস্ত করবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এভাবে দমন নিপিড়ন করে কখনও ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনগণের ন্যায্য দাবিকে কখনও দমন নিপীড়ন করে দমন করা যায় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এটা ফেব্রুয়ারি মাস, ১৯৫২ সালে এদেশের মানুষ মায়ের ভাষার জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এসরকার বেআইনি, দখলদারী সরকার, জনগণের কোনো ম্যান্ডেট ছাড়া তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। একদলীয় শাসন কায়েম করতে সমস্ত দমন নিপিড়ন, নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। আজ সরকারের উপর জনগণের কোনো আস্থা নেই, আমাদোর ২৫ লক্ষ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তাকেও ২ বছর ৭ দিন যাবত কারাগারে আটকে রেখেছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, আমরা তাঁর মুক্তির মাধ্যমে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি, আমরা আবারও বলছি বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ তাকে মুক্তি দিন।’



খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের সাহসিকতার ফলে আজকের এ সমাবেশ সফল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করেছেন বলেই আজ তিনি কারাগারে। আমরা বলতে চাই- খালেদা জিয়াকে নয় সারা বাংলাদেশকে কারাগারে রাখা হয়েছে। আজ আইনের শাসন নেই। মানুষ সুবিচার পায় না, সব জায়গায় মানুষের নিরাপত্তার অভাব।’

মোশাররফ বলেন, ‘টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনোবাজি করে দেশকে শেষ করে দিয়েছে। এই লুটেরা স্বৈরশাসকের শাসনে মানুষ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আজ দেশে সব কিছুতে পচন ধরেছে। এ থেকে এ দেশকে মুক্ত করতে হবে। জনগণকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এসব অর্জন করতে হলে সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। তার নেতৃত্বে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।’



মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শত প্রতিকুলতার মাঝেও আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। আমাদেরকে খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের জেলে নিক, নির্যাতন করুক, গুম খুন করুক কোনো কিছুতেই প্রতিবাদ থামবে না। আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়া নয় দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জনগণ বন্দি। তার মুক্তির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা মুক্তি পাবে। আমরা ইনশাআল্লাহ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।’

আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার জানে খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে রাজপথে নামলে জনগণের স্রেতে সরকার ভেসে যাবে। তাই খালেদা জিয়ার জামিন বাধাগ্রস্ত করছে। তাকে আটকে রাখছে। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠ করবো।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মায়ের মুক্তির জন্য সমবেত হয়েছি। মায়ের মুক্তির সংগ্রাম কেউ থামাতে পারে না। কোনো ভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। মায়ের মুক্তি জনগণ, গণতন্ত্র, আইনের স্বাসন, ও স্বাধীনতার মুক্তি। মায়ের মুক্তির আন্দোলনের আমাদের যোগ দিয়ে মাকে মুক্ত করতে হবে।’

ইকবাল সাহান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আন্দোলন করতে হবে, সবাইকে একত্রিত করতে হবে, প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে। তাহলেই পারবো জেলের তালা ভেঙে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থানী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীর প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচ/ এসআই/ এসএ 

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি