কখন যে সিংহাসন ডুবে যাবে টের পাবেন না: সরকারকে রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:০৪ আপডেট: ০১:৩৮

কখন যে সিংহাসন ডুবে যাবে টের পাবেন না: সরকারকে রিজভী

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনি মনে করছেন আপনার অনেক ক্ষমতা। ধরে নিয়ে যাবেন, গুম করে দিবেন। কিন্তু কখন যে আপনার সিংহাসন চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাবে আপনি সেটা টেরই পাবেন না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।মানববন্ধনের আয়োজন করে ফিউচার অব বাংলাদেশ।

রিজভী বলেন, দুই জন শিক্ষককে  চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেনো করা হয়েছে? তারা কি কোনো অন্যায় করেছে? কোনো দুর্নীতি করেছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত করার যে আইন আছে সেই আইনের মধ্যে কি তারা পড়েছে? অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে কেনো চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা আপনারা জানেন। সে জিয়াউর রহমানের নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখেছেন। এইটা হচ্ছে অপরাধ। আর একেএম ওয়াহিদুজ্জামান রাজনীতির করুণ দশা নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে মামলা করা হলো, চাকরিচ্যুত করা হলো ডা. মোর্শেদকে। ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, মামলা নিষ্পত্তি হয়নি, তার আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, সরকারবিরোধী দল বিরোধী মত নিশ্চিহ্ন করার জন্য অমানবিক কর্মসূচি এতদিন ধরে গ্রহণ করেছেন। সেটা কি? সেটা গুম, সেটা নিরুদ্দেশ করে দেয়া, সেটা অদৃশ্য করে দেওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যা। এটাতেও তারা শান্তি পাচ্ছেন না। তাহলে কী করতে হবে? ওরা (বিরোধী মত) যাতে না খেয়ে থাকে, ওরা যেনো ক্ষুধার্ত থাকে, ওরা যেনো অনাহারে থাকে তাই তারা যে কর্মকাণ্ড করে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আমি সরকারে উদ্দেশ্য বলতে চাই, আপনি যদি বলেন যারা ভিন্নমতে বিশ্বাসী, যারা বিরোধী দলের বিশ্বাসী, তোমাদের খাওয়ার অধিকার নাই, তোমাদের তৃষ্ণা পেলে পানি খাওয়ার অধিকার নেই, তোমরা ক্ষুধায়- তৃষ্ণায় মরে যাও। আপনি এই কর্মসূচি দেন।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ভাইস-চ্যান্সেলর এতই পা চাটা হয়েছেন যে তিনি আইন কানুনের পরোয়া করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় কোন আইনেই মোর্শেদ হাসান খান ও ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত করা যায় না। চাকরিচ্যুত করা যায় একমাত্র শেখ হাসিনার চোখ-রাঙানিতে, শেখ হাসিনার ধমকানিতে, দেশ শেখ হাসিনার হুমকিতে। শেখ হাসিনার হুমকিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোর্শেদ হাসান খান ও একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকুরিচ্যুত করেছে। এখানে আইনের দরকার পড়েনি, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় বিধিবিধানের দরকার পড়েনি, এখানে কোন অন্যায় ন্যায্যতার দরকার পড়েনি। দরকার পড়েছে একজন ব্যক্তি নির্দেশ। সেই হুকুম তামিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা এর আগের ভাইস চ্যান্সেলর দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আন্দোলন হচ্ছে, তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুমতি ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রবেশ করতে পারেনি। এখন আমরা কী দেখছি? অবলীলাক্রমে তারা ঢুকে যায়। যারা ভিন্নমতালম্বী, যারা বিএনপিকে সমর্থন করে অথবা অন্য কোন মত পোষণ করে। ভাইস চ্যান্সেলর কোন কিছু তোয়াক্কা না করে তাদের চাকরিচ্যুত করছে।

তিনি বলেন, এখন তারা কি করছে ওদেরকে শেষ করে দিতে হবে। ওরা যেন না খেয়ে থাকে। ক্ষুধার্ত আর অনাহারে থাকে। তাই ভিন্নমতের লোকদেরকে তাদের কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড কী? ছাত্রদের পড়ানো। শিক্ষকতা করা। ড. মোর্শেদ তাই করতেন। তিনি মেট্টিক থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত সবগুলোই ফার্স্টক্লাস পাওয়া। মেট্টিক ও ইন্টারমিডিয়েটে স্ট্যান্ড করেছে। তাকে বহিষ্কার করা হলো। ওয়াহিদুজ্জামানও সবগুলোতে প্রথম শ্রেণী প্রাপ্ত শিক্ষক। না হলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। ড. মোর্শেদের অতুলনীয় মেধা। সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের বৃহত্তম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি শিক্ষক। তাকে ভিন্নমতের কারণেই চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

রিজভী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি তো গুম করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছেন। আপনি জনপ্রতিনিধিদের অদৃশ্য করেছেন। ইলিয়াস আলী নেই, চৌধুরী আলম নেই, সাইফুল ইসলাম হীরু নেই। এখন সরকার চাচ্ছে যে তোমরা নিজেরা নিজেরাই মরে যাও। তোমাদের চাকরিও থাকবেনা। যে ছেলেটি চারটি ফার্স্টক্লাস পাওয়া, বোর্ড স্ট্যান্ড করা। সে কী করবে এখন?।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরিতে পুর্নবহালের দাবিও এ সময় জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মৎসজীবি দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এসএ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি