রাজশাহীর রাজনীতিতে অস্থিরতা!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৫:১৭ আপডেট: ০৮:১৪

রাজশাহীর রাজনীতিতে অস্থিরতা!

রাজশাহী জেলা ও নগর আওয়ামী লীগে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিরোধ দেখা দিয়েছে নেতাদের মধ্যে। এ ছাড়াও আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে চাঙা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজনীতি। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে নামায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। আবার সাত দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের চাপ থাকায় নেতা কর্মীদের প্রাপ্যতা, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দূরাচলেও ভুগছেন অনেকে। 

আর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছিল সম্মেলনের জন্য। পার করে দিয়েছে বছর তিন মাসের জন্য করা কমিটি। আর চার বছর ধরে চলছে ২১ সদস্যের মহানগর কমিটি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। 

অন্যদিকে আহবায়ক কমিটি দিয়ে মহানগর জাতীয় পার্টির কার্যক্রম কিছুটা থাকলেও নিস্ক্রীয় জেলা কমিটি। এক বছর আগে শেষ হয়েছে জেলা কমিটির মেয়াদ। আর নিরবেই ঘর গোছাতে ব্যস্ত জামায়াতে ইসলামি। প্রস্তুতি চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার।

আওয়ামী লীগ: গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি ও সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারাকে সাধারণ সম্পাদক এবং বাঘা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাবলু ও এমপি আয়েন উদ্দিন এমপিকে যুগ্ম সম্পাদক করে চার সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন।

পরে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিতে বলা হয়। প্রায় চার মাস আগে ৭৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়। কমিটিতে আগের কমিটির নেতৃস্থানীয় প্রায় ৩৫ জন নেতার নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পদবঞ্চিতরা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবর দুটি অভিযোগ দিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন না করার দাবি জানান। দলের স্বার্থে প্রস্তাবিত কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনেরও দাবি করেন তারা।

জেলা কমিটির সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, এমপিদের সুপারিশে অনেককে পদ দিতে হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদের প্রস্তাব করা হয়েছে যাদের, আমি তাদের অনেককে চিনিও না। কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে; কেন্দ্র যেটা ভালো বিবেচনা করবে সেটাই হবে। আমার বলার কিছু নেই।

এদিকে, গত ১ মার্চ সম্মেলন হয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য প্রথমে এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা হয়নি। তবে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে তালিকা পাঠাতে বলা হয় হাই কমান্ড থেকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও দিতে পারেনি কমিটির তালিকা। যদিও কমিটি জমা দেয়ার সময় আরও সাতদিন বাড়িয়েছে দলের হাই কমান্ড। 

দলীয় সূত্রমতে, দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নগর সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন। যেখানে দলের নিষ্ক্রীয়দের বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাদের রাখা হয়েছে। তবে কমিটিতে পদ পেতে এখনো সক্রিয় রয়েছে দলের কিছু প্রভাবশলী নেতা। সে কারণে কমিটি চূড়ান্ত করতে হিমশিম ক্ষেতে হচ্ছে তাদের।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা পুর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই তালিকা জমা দিব। চেষ্টা করেছি দলের ত্যাগী নেতাদের পদে রাখার।

বিএনপি: নিষ্ক্রীয়তার অভিযোগে গত বছরের ৫ জুলাই জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আবু সাইদ চাঁদকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলন আয়োজন করতে তিন মাসের জন্য করা কমিটি বছর পার করে দিয়েছে। ফলে হতাশ দলের নেতারা। এছাড়াও ইউনিট কমিটি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতিতেও। ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে ২১ সদস্যের আংশিক মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলা হলেও চার বছরেও তা সম্ভাব হয়নি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। 

এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর নাশকতার একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভাব হয়নি। তবে কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার জানান, করোনার কারণে ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ করা যায়নি। তবে শিগগিরই সম্মেলন করে বিএনপিকে আরও গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, দলের নেতাদের মধ্যে মতভেদ থাকার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে নগরের আটটি থানার ও ৪০টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম শিঘ্রই শুরু হবে। ইউনিট কমিটি শেষ করে নগরের সম্মেলন করা হবে বলে জানান তিনি। 

জাতীয় পার্টি: গত মার্চে রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে। এক গ্রুপের দেওয়া তালা ভেঙে আরেক গ্রুপের কার্যালয় দখল-পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটে। এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি নানা অভিযোগ তুলে নগর জাপার প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতা গণপদত্যাগ করেন। এরপর কেন্দ্র থেকে ৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন এবং সদস্য সচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। এই কমিটি বর্তমানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর জেলা কমিটির সভাপতি রয়েছেন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রেন্টু। 

নগর কমিটির সদস্য সচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, নগরে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। করোনাকালিন স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংগঠনের কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগরীতে সাতটি থানা ও ৩০টি ওয়ার্ড ইউনিট রয়েছে। এসব ওয়ার্ড ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলছে। শিগগরিই সব ইউনিট কমিটি করার পর মহানগরের সম্মেলন করা হবে।

জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, গত মে মাসে তাদের কমিটির মেয়দ শেষ হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহবায়ক কমিটি না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যেই তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলাগুলোতে সাংগঠনিক সফর করে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামী: রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে কোন কর্মকাণ্ড নেই। তবে তাদের রয়েছে মহানগর ও জেলাসহ সব ইউনিটের পুর্ণাঙ্গ কমিটি। মহানগরে একটি কমিটি থাকলেও জেলাকে ভাগ করে পূর্ব ও পশ্চিম দুইটি সংগঠনিক কমিটি করা হয়েছে। নিরবে তারা ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশেষ করে মসজিদ ও মাদরাসা ভিত্তিক তাদের কার্যক্রম বেশি। 

মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আডভোকেট আবু সেলিম বলেন, প্রশাসন আমাদের প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে দেয় না। তাই ঘরোয়াভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত দিনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার দলীয় যে সিদ্ধান্ত ছিলে তা এখনো বহাল রয়েছে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে কি না তা কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি