বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বনাম মূর্তি: কী বলছেন ১৪ দল নেতারা

রাহাত হুসাইন
২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:০৯ আপডেট: ০৩:৫৭

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বনাম মূর্তি: কী বলছেন ১৪ দল নেতারা

রাজধানীর ধোলাইপাড় মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। নির্মাণাধীন সেই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে এদেশীয় ধর্মভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করা না হলে তা ভেঙে ফেলারও হুমকি দিয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি দলগুলো।

ভাস্কর্যবিরোধী এ দাবি বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী চৌদ্দ দলের নেতারা ভিন্ন-ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। জোট নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়। ভাস্কর্যের বিরোধিতার আড়ালে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ব্রেকিংনিউজকে বলেন,  ‘বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নিয়ে একটি মহল ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে। যা ক্ষমার অযোগ্য। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে চিরচেনা মহলটি সেই পুরোনো আস্ফালন চলাচ্ছে। মুজিববর্ষে জাতি যখন বঙ্গবন্ধুর জীবনসংগ্রাম, আদর্শ ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তার লক্ষ্যকে স্মরণ করছে ঠিক তখনই একটি মহল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতায় নেমেছে। ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস নয়। ভাস্কর্যকে মূর্তিপূজার সঙ্গে তুলনা করা কেবল বালখিল্যতা নয়, ধর্মের বিকৃতিও।’ 

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান আসলে বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান চলে আসে। পাকিস্তানপন্থি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের আসল টার্গেট হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারা ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়। ’৭৫-এর পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা শুরু হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতা সেই অপরাজনীতিরই অংশ।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ইসলামী গ্রুপগুলো ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে। ইসলামি দেশে অনেক ভাস্কর্য রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। তাদের এই প্রপাগান্ডা জাতীয় স্বার্থবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বলে আমি মনে করি।’

গত ১৩ নভেম্বর করোনাকালীন যাবতীয় বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে তারা (ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন) যেভাবে গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে সমাবেশ করেছে এবং যে ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিষোদ্গার করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতাতূল্য অপরাধ হলেও এখন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে সরকারি কিংবা সরকারদলীয় কোনও প্রতিবাদ আমাদের নজরে পড়েনি।

গেল ১৩ নভেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে এক সমাবেশ থেকে ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপিত ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অপসারণের দাবি তুলে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন।

‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বক্তরা বলেন, মূর্তির বদলে আল্লাহ, কোরআন ও হাদিসের বাণী সম্বলিত মিনার স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশ মসজিদের দেশ, আউলিয়ার দেশ, মাদরাসার দেশ। এদেশে কোনও মূর্তি থাকতে দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘প্রতিটা সভ্য দেশেই ভাস্কর্য নির্মাণ করে। ভাস্কর্য বিরোধীরা সভ্যতার বাহিরে কথা বলছে। যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করতে চায়, তাদের জবাব হলো সারাদেশে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য নির্মাণ করা। ভাস্কর্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উৎথাপনের কোনো সুযোগ নেই। 

বাংলাদেশর সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ  খান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, যারা ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছে তারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। আসলে তাদের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানের সল্পতা রয়েছে। তারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বেশি বুঝতে চাচ্ছে। ইসলাম ধর্ম ভাস্কর্য বিরোধী নয়। সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। সব স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীনতার মূল নায়কদের ভাস্কর্য রয়েছে। 

১৩ নভেম্বরই রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হকও প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। 

ধূপখোলার মাঠে সমাবেশে আয়োজনকারী ‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদ’কে ‘হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির মদদপুষ্ট’ হিসেবে বিবৃতিতে আখ্যা দিয়ে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তির তীব্র নিন্দার পাশাপাশি আমরা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির এহেন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় অবস্থানের জন্য সরকারেরও নিন্দা জানায়।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে চৌদ্দ দল ও সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে আমাদের অবস্থান থাকবে।’

২০০৫ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২৩ দফার ভিত্তিতে বাম প্রগতিশীল জোট ১১ দল, আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। 

ভাস্কর্যকে “অনৈসলামিক’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সময় তার বিরোধিতায় নেমেছে ইসলামী দলগুলো। হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের অব্যাহত দাবির মুখে ২০১৭ সালের ২৬ মে মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে সরানো হয়েছিল ভাস্কর মৃণাল হকের শিল্পকর্ম জাস্টিস লেডির ভাস্কর্য।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি