এরশাদের আসন ধরে রাখতে পারবে জাপা?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৮:৪২ আপডেট: ১০:৫০

এরশাদের আসন ধরে রাখতে পারবে জাপা?

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী আওয়ামী লীগের ৯ প্রাথী ও গত নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৭ প্রাথীসহ বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী সরব হয়ে উঠেছে। তারা এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিবে না। 

গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের ভরাডুবির এবং এরশাদের অবর্তমানে সদর আসনটি ধরে রাখতে পারবে কিনা এনিয়ে অনেকের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) দূর্গখ্যাত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনে জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান পেয়েছেন একজন।

সূত্রে জানা গেছে, সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ১৯৯১ সালে রংপুর সদর- ৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি জেলে ছিলেন। তখন থেকে সদর আসনটি এরশাদের দখলে। ১৯৯৬ সালে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পায় জাতীয় পার্টি। এরপর থেকে দলটির আসন সংখ্যা শুধু কমেছে। শুধু সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচনই নয়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। রংপুরের ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিতেছে। তাই এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুরে জাতীয় পার্টি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাচনে রংপুরের গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, মিঠাপকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নিজেদের কোনও প্রার্থীই দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। গুরুত্বপূর্ণ সদর আসনে প্রার্থী দিলেও সরকার দলীয় প্রার্থীর সাথে সুবিধা করতে পারেনি। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকট অনেক ভোটের ব্যবধানে হেরেছে জাপা প্রার্থী। শুধু পীরগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। 

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রংপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রোজি রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আলা লুৎফা ডালিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কর্মাসের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন ও জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল। সেসময় তারা সকলেই আশাবাদী ছিল তারা নৌকা প্রতীক পেলে তারা বিজয়ী হবে। এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই আসনে তাদের অনেকেই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

এ ব্যাপারে জেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ বেশ কজন নেতা জানান, ‘রংপুর সদর আসন এরশাদের মূলঘাটি। এখানে কোন দলই সুবিধা করতে পারবে না। দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। দলের চেয়ারম্যনের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি মাথা উচু করে দাঁড়াবে এটাই আমাদের বিশ্বাস।’

নগরীর বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা  গেছে, এমনিতে জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে দুর্বল। তার ওপর দলের চেয়ারম্যানের মৃত্যু। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি সদর আসটি ধরে রাখতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

গত সংসদ নির্বাচনে এরশাদ ছাড়াও পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান রিটা রহমান (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), সাব্বির আহম্মেদ (পিডিপি-বাঘ), আনোয়ার হোসেন বাবলু (বাসদ-কোদাল), আলমগীর হোসেন আলম (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), তৌহিদুর রহমান মন্ডল (খেলাফত মজলিস-দেওয়াল ঘড়ি) ও ছামসুল হক (এনপিপি-আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারও এবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এছাড়াও বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাওছার জামান বাবলার নাম শোনা যাচ্ছে। তারাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষরদের সদস্য চৌধুরি খালেকুজ্জামান বলেন, আমি ৩ বার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু জোটগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আশা করি এবার এই আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী দেয়া হবে। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এখানে নৌকা প্রতীকের বিকল্প নেই। 

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে সদর আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে আছে। এই আসনে এবার নৌকার প্রার্থী দেয়া হবে। আশাকরি নৌকাই এখানে বিজয়ী হবে।’

উল্লেখ্য, সদর আসন রংপুর মেট্রোপলিটন সিটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ১শ ৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭শ ১৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪শ ৩৪ জন।

ব্রেকিংনিউজ/ এরআর/ এসএ 

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি